মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত সরদার মাসুদ খান। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের মতে, চুক্তিটি উন্মুক্ত ও প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় আগ্রহী দেশগুলোকে বাড়তি নিরাপত্তার সুযোগ দিতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে সরদার মাসুদ খান বলেন, মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের বার্তা পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কোনো একক রাষ্ট্রের আধিপত্য ঠেকানোর বিষয়ে আগ্রহী।
তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি স্বেচ্ছাভিত্তিক এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের জন্যও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। বরং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থের কথাও তুলে ধরেন সরদার মাসুদ খান। মুসলিম সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সমর্থনের মতো বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব কারণে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সরদার মাসুদ খানের ভাষ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সীমান্ত, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো দেশটির জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বাস্তবতা ও পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করলেও বাংলাদেশের পক্ষে বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি দূরত্ব তৈরি করা সম্ভব নয়।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ভারতের জন্য শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে না দেখার আহ্বানও জানিয়েছেন সরদার মাসুদ খান। তার মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাবে।
ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে নিকট ভবিষ্যতে ইরানের চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তিনি। তবে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর, বিশেষ করে সৌদি আরবের, মধ্যে উত্তেজনা কমে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়লে ভবিষ্যতে তেহরান এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
সরদার মাসুদ খানের মতে, বিস্তৃত এই প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশটির কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা জোরদারে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


