বারবার ব্লিচিংয়ে বড় ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রবালপ্রাচীর

বিশ্বজুড়ে ঘন ঘন প্রবাল সাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনায় (ব্লিচিং) প্রবালপ্রাচীরের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। একবার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও ব্লিচিংয়ের শিকার হওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাচ্ছে না প্রবাল। এতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত গ্লোবাল কোরাল রিফ মনিটরিং নেটওয়ার্কের (জিসিআরএমএন) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রবালের বিস্তার স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঘন ঘন ব্লিচিংয়ের কারণে প্রবালপ্রাচীরের ওপর চাপও ক্রমেই বাড়ছে।

প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের বিজ্ঞানী ম্যানুয়েল গনজালেজ রিভেরো বলেন, পর্যাপ্ত সময় পেলে প্রবাল ক্ষতি কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে বারবার ব্লিচিং হওয়ায় সেই পুনরুদ্ধারের সুযোগ কমে যাচ্ছে। গত কয়েক দশকে এ ধরনের ঘটনার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্রবাল তাদের শরীরে থাকা রঙিন শৈবাল বের করে দেয়। এতে প্রবাল সাদা হয়ে যায়, যাকে ব্লিচিং বলা হয়। এ অবস্থায় পড়লেই প্রবাল তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায় না। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ব্লিচিং চলতে থাকলে প্রবাল দুর্বল হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা যেতে পারে।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রবালের অবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া বৈশ্বিক প্রবাল ব্লিচিং ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত। ওই সময়ে বিশ্বের প্রায় ৭৭ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর এলাকায় এর প্রভাব পড়েছিল।

সমুদ্রের তাপমাত্রা এখনো উচ্চ থাকায় চলতি বছরেও বড় ধরনের প্রবাল ব্লিচিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন রিভেরো।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রবালপ্রাচীরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের তলদেশের এক শতাংশেরও কম এলাকা জুড়ে থাকা এসব প্রবালপ্রাচীর সামুদ্রিক জীবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে আশ্রয় ও খাদ্য জোগায়। তাই প্রবালপ্রাচীরের ব্যাপক ক্ষতি হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমানোর পাশাপাশি দূষণ ও অতিরিক্ত মাছ ধরার মতো স্থানীয় চাপও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে প্রবালপ্রাচীরের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top