ইরানকে ঘিরে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৪ সেন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯২ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ১৪ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার আগে বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় তেলের দামে এই চাপ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পরিধি এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব স্পষ্ট হলে বাজারের পরবর্তী গতিপথও পরিষ্কার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন। এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই উদ্যোগকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আর্থিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপ শুধু ইরানের ওপর সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক রাখা অংশীদারদেরও এর আওতায় চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এতে দেশটির তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে ইরানও পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির ভাষ্য, চলমান ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ আরও তীব্র হলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের পরিস্থিতি এবং ইরানের তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ফলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে তেলের দাম কমলেও সামনে বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের তেল রপ্তানি, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের পরিধির ওপর।


