ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক পদগুলোতে অভিজ্ঞ কমান্ডার এবং কট্টরপন্থি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক নিয়োগকে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এসব পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রায় ছয় মাস লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসে তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে একাধিক প্রবীণ সামরিক কমান্ডার ও কট্টরপন্থি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক নিয়োগের মধ্যে অন্যতম মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের নেতৃত্ব দেওয়া এই সাবেক সামরিক কমান্ডারকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েবকে বাসিজ বাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই শক্তিশালী আধাসামরিক নেটওয়ার্ক অতীতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হয়েছে।
রদবদলের অংশ হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন জেনারেল স্টাফ, রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন প্রধান এবং বাহিনীটির নৌবাহিনীর নতুন কমান্ডারও নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে নৌবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের পেছনে এমন একটি কৌশল থাকতে পারে, যাতে সংঘাতের অবসান হলেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকে।
এদিকে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাও সোমবার শেষ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবার বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তেহরানের সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তনের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।


