আফগানিস্তানে প্রথমবার স্বর্ণ ও গহনা শিল্পের প্রদর্শনী

আফগানিস্তানে প্রথমবারের মতো স্বর্ণ ও গহনা শিল্প নিয়ে তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাজধানী কাবুলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শুরু হওয়া এই আয়োজনে দেশীয় জুয়েলারি শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরা, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দীন আজিজি বলেন, জুয়েলারি শিল্প আফগানিস্তানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। নির্ধারিত কর্মস্থল, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো গেলে এ খাতে দেশটি স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আজিজি আফগান নকশার বিকাশের ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, বিশ্বের দক্ষ ডিজাইনারদের আফগানিস্তানে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রদর্শনী বিভাগের প্রধান ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন, জুয়েলারি শিল্পের উন্নয়ন, পণ্যের প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগে উৎসাহ এবং দেশীয় উৎপাদনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কাবুলে ইরানি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলিরেজা বিকদেলি বলেন, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও ইতিবাচক হবে। ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের জুয়েলারি প্রদর্শনীতে ইরানি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

আফগানিস্তান জুয়েলার্স ইউনিয়নের প্রধান মুহাম্মাদ বশির এহসানজাদা জানান, দেশেই জুয়েলারি উৎপাদনের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। তবে শিল্পটির আরও বিকাশে ব্যবসায়ীদের সহায়তা, আধুনিক সরঞ্জাম এবং পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, স্বর্ণ জাতীয় সম্পদের অংশ হওয়ায় জুয়েলারি খাতকে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করা প্রয়োজন। এতে জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণেও সুবিধা হবে।

প্রদর্শনীতে ২৬টি স্টলে আফগানিস্তানে তৈরি বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের গহনা ও নকশা প্রদর্শন করছেন প্রস্তুতকারীরা। প্রদর্শক ফয়সাল হাকিকত বলেন, আয়োজনটির মাধ্যমে স্থানীয় পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি এ খাতে দেশের অগ্রগতিও দেখানো সম্ভব হচ্ছে।

আরেক প্রদর্শক আজিজুল্লাহ আমিন জুয়েলারি শিল্পে আরও বিনিয়োগ ও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিমুখী হওয়ার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।

আফগানিস্তানে স্বর্ণ ছাড়াও মূল্যবান ও অর্ধমূল্যবান খনিজের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। তাকহার, বাদাখশান, পাঞ্জশির ও নুরিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব খনিজ উত্তোলন ও ব্যবহার করা হচ্ছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top