অর্থ সংকটে এবার হচ্ছে না সাফের অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইয়ের আগে গত কয়েক বছর নিয়মিত সাফের নারী ও পুরুষ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলেও এবার সেটি হচ্ছে না। অর্থসংকটের কারণে বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারছে না দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ফেডারেশনগুলোর সংগঠন সাফ।

গতকাল পুরুষ অনূর্ধ্ব-১৭ এএফসি বাছাই টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী নভেম্বরে এশিয়ার সাতটি দেশে হবে বাছাইপর্বের ম্যাচ। এর আগে সাফের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং এএফসি বাছাইয়ে ভালো করার সুযোগ তৈরি করা।

টুর্নামেন্টটি এবার কেন হচ্ছে না, সে বিষয়ে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কারণে এবার প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি সাফের মার্কেটিং পার্টনার পরিবর্তনের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত। তবে ফুটবল উন্নয়নের জন্য বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এটি আবার আয়োজনের জন্য কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সাফের আয়ের বড় উৎস সিনিয়র পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০২৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে সর্বশেষ আসর হওয়ার পর আর এই প্রতিযোগিতা মাঠে গড়ায়নি। এবার নভেম্বরে ঢাকায় টুর্নামেন্টটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্বকাপের পর এক অনুষ্ঠানে টেকনোর নামে এর লোগোও উন্মোচন করা হয়।

সাফের সাধারণ সম্পাদক জানান, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান টিএসএ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বত্ব নিয়েছে এবং তারা প্রতিযোগিতাটির মার্কেটিং পার্টনার হিসেবে কাজ করবে। স্পন্সরসহ বিপণনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তারা দেখবে। এর বিনিময়ে সাফ একটি নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্ক পাবে।

এর আগে ২০২১ সালে মালদ্বীপে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পর অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়েছিল সাফ। এবার টিএসএর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সংস্থাটি কতটা আর্থিকভাবে লাভবান হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। টিএসএ এর আগে নারী ফুটবল লিগের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছিল। ওই লিগে ব্র্যান্ডিং ও অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বাফুফের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছিল।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সাফের প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়েছে। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাধারণ সম্পাদকের সফরসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্টাফের যাতায়াত ও দৈনিক ভাতায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি গত এক বছরে গঠনতন্ত্র সংশোধন, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনেও সাফের ব্যয় বেড়েছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top