বাংলাদেশের জয়ে মুগ্ধ স্টিভ ওয়াহ, টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট জয়কে বিস্ময়কর সাফল্য হিসেবে দেখছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। তবে বাংলাদেশের এই অর্জনের প্রশংসার পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

চলতি মাসে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। টানা ১১ সেশনে দাপট দেখিয়ে পাওয়া ওই জয়কে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওয়াহ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স দেখতে ভালো লেগেছে।

ওয়াহর মতে, ক্রিকেটে এখন টি-টুয়েন্টির আর্থিক আকর্ষণ এতটাই বেশি যে অনেক খেলোয়াড় দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, কম সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকায় খেলোয়াড়দের কাছে টি-টুয়েন্টি বেছে নেওয়া স্বাভাবিক। তবে একজন ক্রিকেটার নিজের সামর্থ্যের প্রকৃত পরীক্ষা দিতে চাইলে টেস্ট ক্রিকেটেই নামা উচিত।

খেলোয়াড়দের এই সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্য তাদের দায়ী করছেন না ওয়াহ। বরং টেস্ট ক্রিকেট টিকিয়ে রাখতে ক্রিকেট প্রশাসকদের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক।

টেস্ট ক্রিকেটের পারিশ্রমিক কাঠামো নিয়েও দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরেছেন ওয়াহ। ১৯৯৯ সালেই তিনি সব টেস্ট ক্রিকেটারকে সমান পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ২৭ বছর পরও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশ তিনি।

ওয়াহ মনে করেন, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্ট খেলা একজন ক্রিকেটার এবং ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলা একজন ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক সমান হওয়া উচিত। এতে খেলোয়াড়দের টেস্ট ক্রিকেটে ধরে রাখা সহজ হবে বলে তাঁর বক্তব্য।

টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান খেলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ৬১ বছর বয়সী ওয়াহ। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকা, দীর্ঘ সময় উইকেটে পড়ে থাকা এবং প্রয়োজন হলে রান না করেও প্রতিপক্ষের বোলারদের মোকাবিলা করার যে দক্ষতা টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, তা এখন আগের তুলনায় কম দেখা যায়।

৫৭ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪১টি জয় পাওয়া ওয়াহ মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকার সেই মানসিকতা ও কৌশল আবারও ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখতে হলে খেলাটির এই মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আবার শেখাতে হবে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top