বাংলাদেশ এইচপির হয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে খেলতে গিয়ে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন মোহাম্মদ রুবেল। দেশের বাইরে প্রথম সফরেই ছয় ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত বোলারদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন এই রহস্য স্পিনার।
রুবেলের অস্ট্রেলিয়া সফরের গল্পটাও কম চমকপ্রদ নয়। দলে ডাক পাওয়ার সময় তার পাসপোর্টই ছিল না। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে পাসপোর্ট তৈরি করতে হয় তাকে। এরপর প্রথম বিদেশ সফরেই বল হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে রুবেলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট। প্রথম ম্যাচে ১৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ ওভারে ২৫ রান খরচ করে শিকার করেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ম্যাচে ১৫ রানে ৪ উইকেট এবং চতুর্থ ম্যাচে ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি।
পঞ্চম ম্যাচে ৩৯ রান দিয়ে ১ উইকেট পাওয়ার পর সবশেষ ষষ্ঠ ম্যাচে আবারও দারুণ বোলিং করেন রুবেল। ২১ রান খরচ করে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের উইকেটসংখ্যা নিয়ে যান ২০-তে।
অথচ বছরখানেক আগেও দেশের ক্রিকেটে মোহাম্মদ রুবেল খুব পরিচিত নাম ছিলেন না। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকেটার ছোটবেলাতেই মাকে হারান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ধরে রেখেছিলেন। বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌঁছে এসে যেন নতুন করেই শুরু হয়েছে তার ক্রিকেটযাত্রা।
চট্টগ্রামের ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলের নেটে নিয়মিত বোলিং করতেন রুবেল। গত বছর সুযোগ পান এসসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে। সেখানে পারফরম্যান্সের পর চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে খেলার সুযোগ আসে। পরে জায়গা করে নেন লাল বলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও।
সবশেষ বিপিএলে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর রুবেলকে নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে। তার অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন এবং বিশেষ করে দুসরা ডেলিভারি তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ থাকলেও সেসব কাটিয়ে উঠে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
বিপিএলের পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও বল হাতে নজর কাড়েন রুবেল। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল হিসেবে দ্রুতই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নজরে আসেন তিনি। এরপর এইচপি দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পান।
রুবেলের এই উত্থানে ইরফান শুক্কুরের ভূমিকাও রয়েছে। চট্টগ্রামের ক্রিকেটার হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই রুবেলকে চিনতেন তিনি। যখন রুবেলকে খুব বেশি মানুষ চিনতেন না, তখনও শুক্কুর তাকে আগলে রেখেছেন। অস্ট্রেলিয়ার যে টুর্নামেন্টে রুবেল নিজেকে নতুন করে তুলে ধরছেন, সেখানেই আবার তার অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর।


