ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে যখন সাবেক ফুটবলার ও কয়েকটি শক্তিশালী কনফেডারেশনের সমালোচনা বাড়ছে, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু। ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে গত এক দশকে ফুটবল প্রশাসনে যে পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে সাবেক খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ, সেটির প্রশংসা করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও তাঁর ওপর চাপ কমেনি। উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের মতো প্রভাবশালী কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের গুঞ্জনও জোরালো হয়েছে।
এরই মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের ইমানুয়েল পেতি, বিশেন্তে লিজারাজু ও রবার্ট পিরেস, যুক্তরাষ্ট্র নারী দলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা ব্রিয়ানা স্কারি এবং ইংল্যান্ডের লুসি ব্রোঞ্জসহ কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড় ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতি দেন। সেখানে তাঁরা দাবি করেন, বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব ফুটবলের মূল মূল্যবোধ থেকে সরে যাচ্ছে এবং পরিবর্তন প্রয়োজন।
তবে সেই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন কাফু। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি ফিফা ও ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, গত ১০ বছরে ফুটবল প্রশাসনে খেলোয়াড় ও সাবেক ফুটবলারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগে দেখা যায়নি।
কাফু বলেন, বিভিন্ন কমিটি, প্রকল্প ও ওয়ার্কিং গ্রুপে খেলোয়াড় এবং সাবেক ফুটবলারদের যুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাঁদের জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রাজিলের হয়ে দুটি বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক রাইটব্যাকের মতে, সাবেক ফুটবলারদের ভূমিকা এখন শুধু শুভেচ্ছাদূতের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নেই। মাঠের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ফুটবল নীতি নির্ধারণেও কাজে লাগানো হচ্ছে। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁদের চিন্তা, ধারণা ও অংশগ্রহণের প্রভাব রয়েছে বলেও জানান কাফু।
ফুটবলের সামাজিক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। কাফুর ভাষায়, ফুটবল মানুষের জীবন বদলাতে, সমাজকে আরও সুন্দর করতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। গত এক দশকে ফুটবলের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে এবং এর সুফল বিশ্বের সব প্রান্তে পৌঁছে দিতে তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান সমালোচনার মধ্যে কাফুর এই প্রকাশ্য সমর্থন ফিফা সভাপতির জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


