যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯২ ডলারের ঘরে থাকলেও মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম রয়েছে ৮৫ ডলারের ঘরে।
রয়টার্সের হিসাবে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ সেন্ট বা দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ১৬ ডলারে নেমেছে। বিপরীতে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ সেন্ট বা প্রায় দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। টানা দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া ওই দরপতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তেলের বাজারে নতুন করে নজর কেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী পদক্ষেপ। ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন পক্ষের ওপরও চাপ বাড়ানো হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাবের দিকে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি কতটা বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর জবাবে তেহরান কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা ও সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়লে বর্তমানে স্থিতিশীল থাকা তেলের দামে আবারও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


