ভারী বৃষ্টির পর গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে বিশাল আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোররাত ২টার দিকে কোনাক্রির গবেসিয়া এলাকার দার-এস-সালাম বর্জ্যভাগাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতভর ভারী বৃষ্টির পর আবর্জনার বড় একটি অংশ ধসে আশপাশের তাঁবু, অস্থায়ী ঘরবাড়ি ও বসতিতে গিয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। খননযন্ত্রের সাহায্যে ধসে পড়া আবর্জনা সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত ২২ জনের মধ্যে ছয়জন গুরুতর এবং ১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগে বর্ষাকালে বর্জ্যভাগাড়টির একটি অংশ ধসে পড়ার ঝুঁকি বিবেচনায় আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। পাশাপাশি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় অনেক মানুষ অবস্থান করছিলেন।
দার-এস-সালাম কোনাক্রির অন্যতম বড় উন্মুক্ত বর্জ্য ফেলার স্থান। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সেখানে আবর্জনার স্তূপ নরম হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরেই বর্জ্যভাগাড়টির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
গিনির প্রধানমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারক করেছেন। একই সঙ্গে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দার-এস-সালামের এই দুর্ঘটনা আফ্রিকার দ্রুতবর্ধনশীল নগর এলাকাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত বসতির নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে।


