রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ও পানি সংকট একসঙ্গে ভোগান্তি বাড়িয়েছে নগরবাসীর। দিনের বড় একটি সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা, ইলেকট্রিক কুকার কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
একই সময়ে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও কল খুললে পাওয়া যাচ্ছে ময়লা, হলদেটে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। ফলে খাবার পানি থেকে শুরু করে রান্না ও গৃহস্থালির কাজেও বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
রাজধানীর বাসাবো, কদমতলা, মুগদা, খিলগাঁও মাটির মসজিদ, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১১, মনিপুর ও খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট এবং পানির মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
কোথাও দীর্ঘ সময় পানি থাকছে না, আবার কোথাও সরবরাহ করা পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। এতে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পানি না থাকলে অনেক পরিবারকে বাজার থেকে বোতলজাত পানি অথবা স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে পানি কিনতে হচ্ছে। শুধু পান করার জন্য নয়, রান্না ও অন্যান্য প্রয়োজনেও আলাদা করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
সংকট যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে পরিবারের মাসিক ব্যয়। এর সঙ্গে গ্যাস না থাকায় বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল বা জ্বালানি খরচও বাড়ছে।
খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। পানি ফুটিয়ে বা ছেঁকে ব্যবহারের চেষ্টা করেও অনেকে সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে গিয়ে মাসিক বাজেটের একটি অংশ বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটও রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকা বা চাপ কম থাকায় রান্না করতে বেশি সময় লাগছে। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনছেন। পানি ও গ্যাসের জন্য একই সময়ে বাড়তি ব্যয় হওয়ায় সাধারণ পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা জালাল উদ্দীন জানান, কয়েক দিন ধরে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাস ও পানির সংকট চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিনে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
গ্যাস না থাকায় রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং লাইনে পর্যাপ্ত পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বা ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করতে গিয়ে তার মাসে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, মানুষের জন্য পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
তার মতে, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ না থাকলে যেকোনো শহরের নাগরিক সেবা ব্যবস্থা ব্যর্থ হতে পারে। তিনি আরও জানান, ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও অনেক নিচে নেমে গেছে। ২০০০ সালে যেখানে ৩০ থেকে ৪০ মিটার গভীরে পানি পাওয়া যেত, এখন তা ১২০ মিটারে নেমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞের মতে, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎসহ মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো এলাকার দীর্ঘমেয়াদি আকর্ষণ ধরে রাখা কঠিন। তাই পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এসব মৌলিক সেবার মান ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।


