ভিসা জটিলতায় থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের এশিয়ান কাপ প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে থাইল্যান্ডের ভিসা জটিলতা। উজবেকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থাইল্যান্ডে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা থাকলেও সময়মতো ভিসা না মিললে সেই সফর বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট। মূল প্রতিযোগিতার প্রায় তিন দিন আগে সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা বাংলাদেশের। এর আগে থাইল্যান্ডে গিয়ে কয়েকটি অনুশীলন ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

তবে কয়েক দিন ধরে ভিসার জন্য আবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনো কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। আগামীকালের মধ্যে ভিসা না হলে থাইল্যান্ড সফরের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে। কারণ শুক্রবার বাংলাদেশে থাই দূতাবাস বন্ধ থাকবে। এরপর শনি ও রোববার থাইল্যান্ডে ছুটি থাকায় সময় আরও কমে যাবে। ভিসা পেলেও স্বল্প সময়ে টিকিট করে থাইল্যান্ড গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা কঠিন হবে।

সফরটি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক থাইল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন ও দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় এখন বাফুফে সভাপতি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। দ্রুত ভিসা পাওয়া গেলে উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ভিসা জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক মাস্টার দাবাড়ু মনন রেজাও থাইল্যান্ডে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে অনূর্ধ্ব-২০ দল কয়েক সপ্তাহ যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে অনুশীলন করেছে। দুই দিন আগে ঢাকায় ফিরে বর্তমানে কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে তারা। থাইল্যান্ড সফর যেকোনো সময় হতে পারে বিবেচনায় রেখেই দলটিকে আগেভাগে ঢাকায় নিয়ে এসেছে বাফুফে। তবে কমলাপুর স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় দলটি।

ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স ইতোমধ্যে ২৩ সদস্যের দল চূড়ান্ত করেছেন। দলে রয়েছেন কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারও। আগামীকাল গণমাধ্যমের সামনে দলের বিষয়ে কথা বলার কথা রয়েছে কোচের। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা হতে পারে।

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সাতটি সেরা রানার্সআপ দল মূল পর্বে জায়গা পাবে। বাংলাদেশ রয়েছে বি গ্রুপে। গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান, ভারত ও সিরিয়া।

৩১ আগস্ট স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও সেরা রানার্সআপদের মধ্যে থাকতে পারলে বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলার সুযোগ থাকবে।

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরেই জেরার্ড জোন্সের বাংলাদেশ অধ্যায়ের ভবিষ্যৎও অনেকটা নির্ধারিত হতে পারে। কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ও সনদ নিয়ে ইতিবাচক দিক থাকলেও আচরণ নিয়ে বাফুফের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দলের পারফরম্যান্স তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top