রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে স্বীকৃতির পাশাপাশি সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ চায় নেজামে ইসলাম

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার মানুষকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে মিয়ানমার যাচাই করাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে দলটি বলেছে, শুধু পরিচয় যাচাই বা স্বীকৃতি দিলেই সংকটের সমাধান হবে না। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে দ্রুত কার্যকর ও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান দলের আমির (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার।

বিবৃতিতে তারা জানান, বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার মানুষকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করার খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে প্রত্যাবাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

দলটির নেতারা বলেন, ২০১৭ সালের নিপীড়নের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এরপর প্রায় এক দশক ধরে মানবিক কারণে তাদের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এতে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, স্থানীয় জনজীবন ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটের পুরো দায় বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

নেজামে ইসলামের নেতৃদ্বয়ের মতে, প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিজ বসতভিটায় ফেরার অধিকার, চলাচলের স্বাধীনতা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও থাকতে হবে। এসব শর্ত নিশ্চিত না করে কেবল কাগজে-কলমে প্রত্যাবাসনের ঘোষণা কার্যকর সমাধান দিতে পারবে না।

তারা আরও বলেন, রাখাইনের চলমান সংঘাতকে প্রত্যাবাসন বিলম্বের স্থায়ী কারণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ, ওআইসি ও আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য সময়সীমাবদ্ধ আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ তৈরিতেও তাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে নেজামে ইসলামের নেতারা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পিছপা হবে না। তবে একই সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও কোনো আপস করা যাবে না।

তাদের বক্তব্য, রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং প্রত্যাবাসন শুরুর ভিত্তি হওয়া উচিত। এখন মিয়ানমারকে বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top