সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাকে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতেও উদ্বেগের কথা তুলে ধরে একটি মতামত নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট ইয়েনি শাফাক বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে আরও বৈচিত্র্য আসতে পারে। পাকিস্তান ও তুরস্ক এটিকে ইসলামী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্প্রসারণ হিসেবে স্বাগত জানাতে পারে বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে এতে বলা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদনটিও কোনো সরকারি প্রস্তাব বা ঘোষণা নয়; বরং বাংলাদেশ যুক্ত হলে সম্ভাব্য কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ।
এর এক সপ্তাহ পর, ১৭ আগস্ট এনডিটিভিতে অদিতি ভাদুরির একটি মতামত নিবন্ধে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের আলোচনা ভারতের জন্য কেন উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এনডিটিভির নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিষয়টি কেবল একটি সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ হলেও একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ, তুরস্কের নেতারা জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের আলোচনা ভারতের নজরে রাখার মতো বিষয় বলে মত দিয়েছেন নিবন্ধটির লেখক।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করেন। চুক্তির অন্যতম বিষয় হলো, তিন দেশের কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই জোটকে শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। ভবিষ্যতে আরও দেশকে এতে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও জানিয়েছেন, চুক্তির নীতিগুলো মেনে চলতে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসেনি।


