মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই এলএনজিবাহী জাহাজ পৌঁছানোয় শনিবার টার্মিনালটি সচল করা হয়। দুপুরে সেখান থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে ভেড়ে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজি নিয়ে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন পোর্ট থেকে এসেছে।
নতুন কার্গো পৌঁছানোর পর টার্মিনালে আগে মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে সরবরাহ শুরু করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে নতুন কার্গো থেকে পূর্ণমাত্রায় এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল মিলিয়ে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যে দেশীয় সামিট গ্রুপের টার্মিনাল থেকে আসছিল ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করলে মোট সরবরাহ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।
এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে নতুন কার্গো না আসায় বুধবার বিকেল থেকে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর প্রভাবে দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়। গ্যাসের অভাবে গ্যাসচালিত ২৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এক্সিলারেটের টার্মিনাল সচল হওয়ার পর শনিবার দুপুর থেকেই গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের আশা, রাতের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়লে এলএনজি সংকট থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
এর আগে ২১ এপ্রিল থেকে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়। ওই সময় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে আগুন লাগার পর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। প্রায় দুই সপ্তাহ চালু থাকার পর টার্মিনালটি আবার এলএনজি সংকটে পড়ে। একই সময়ে এলএনজির ঘাটতির কারণে সামিটের টার্মিনালও বন্ধ ছিল।
তবে দুটি টার্মিনাল থেকে পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও তা কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ মাসের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এলএনজিবাহী জাহাজের সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি।


