লারার সতর্কবার্তা: অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞদের বিদায় নিয়ে নতুন শঙ্কা

বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটের হার নতুন করে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার চোখেও ধরা পড়েছে সেই উদ্বেগ। তাঁর মতে, একসঙ্গে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অবসরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

মারারা ওভালে চতুর্থ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের নিয়ে গড়া আক্রমণের বিপক্ষেও তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজরা ভালো ব্যাটিং করেছেন। ঘরের মাঠে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার এমন হার তাই আলোচনায় এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটে।

এই পরিস্থিতির সঙ্গে লারা নিজের অভিজ্ঞতারও মিল খুঁজে পাচ্ছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্যের সময় শেষ হওয়ার শুরুর দিকটি তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ১৯৯১ সালের ইংল্যান্ড সফরের পর ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজ ও জেফ ডুজনের পাশাপাশি ম্যালকম মার্শালও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান।

এরপর মাত্র ২২ বছর বয়সে লারাকে ঘিরে নতুন ব্যাটিং কাঠামো গড়ার চেষ্টা করা হলেও আগের ধারাবাহিকতা আর ফিরে আসেনি।

অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই সময়ের মতো নয়। দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ঘাটতিও নেই। তবে উসমান খাজার অবসরের পর কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউড, লায়ন ও স্টিভ স্মিথের মতো অভিজ্ঞদের ক্যারিয়ারও শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।

কোড স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লারা বলেন, ‘এক-দুজন খেলোয়াড়ের অবসর সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই, যখন অনেকেই একসঙ্গে চলে যায়। ধাপে ধাপে বদল হওয়াই ভালো।’

অস্ট্রেলিয়ার বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান। তাঁর মতে, রিজার্ভ দলের কয়েকজন ব্যাটসম্যানের গড় ৩০-এর ঘরে থাকলেও একসঙ্গে চার-পাঁচজন মূল ক্রিকেটার অবসরে গেলে সেই দল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে।

তাই অস্ট্রেলিয়াকে হঠাৎ বড় পরিবর্তনের বদলে ধাপে ধাপে প্রজন্ম বদলের পরামর্শ দিয়েছেন লারা। এখন দেখার বিষয়, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়া কীভাবে দলটির ভারসাম্য ধরে রাখে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top