এলএনজি না আসায় বন্ধ এক্সিলারেট টার্মিনাল, কমল গ্যাস সরবরাহ

এলএনজিবাহী জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোয় কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে টার্মিনালটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়। এতে দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।

সরকারি গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, এখন মহেশখালীর সামিটের টার্মিনাল থেকেই ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। ওই টার্মিনালটি ২১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে এলএনজিবাহী জাহাজ না পাওয়ায় সামিটের টার্মিনালও এক দিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সামিট চালু হওয়ার পর আবার এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি নতুন করে সংকটে পড়েছে।

জিটিসিএলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার বিকালেও দুই ভাসমান টার্মিনাল থেকে মোট ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বুধবার সকাল থেকে সরবরাহ কমতে থাকে। পরে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেটি ঠিক কবে বাংলাদেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তি ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তাই একটি টার্মিনাল বন্ধ হলে বা সরবরাহ কমে গেলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে।

জিটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আমদানি করা এলএনজি ও দেশে উৎপাদিত গ্যাস মিলিয়ে মোট সরবরাহ ছিল ২২৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবার দুপুরে তা কমে ২০৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বুধবার দুপুরের পর মোট গ্যাস সরবরাহ ১৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যেতে পারে।

এদিকে, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় বছরজুড়ে নির্ধারিত এলএনজি পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং এলএনজি সরবরাহকারী দেশগুলোতে হামলার কারণে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনছে। তবে শিডিউল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এলএনজি দেশে না পৌঁছানোয় সংকট কাটছে না।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top