সামিট টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু, বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় টার্মিনালটির সরবরাহও বাড়তে শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার রাতের মধ্যেই সামিট টার্মিনাল থেকে সক্ষমতার পুরোটা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

এলএনজি আমদানির দায়িত্বপ্রাপ্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিক পতাকাবাহী এলএনজিবাহী জাহাজ মারান গ্যাস আমোরগোস বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছায়। পরে বিকেল থেকে জাহাজটি থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়।

বর্তমানে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে দেশীয় কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের টার্মিনাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল রয়েছে। দুই টার্মিনাল সচল থাকলে মোট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া সম্ভব।

সামিট টার্মিনালের দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে নতুন এলএনজি কার্গো আসতে দেরি হওয়ায় কিছুদিন ধরে এই টার্মিনাল থেকে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। নতুন জাহাজ আসায় এখন সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ মহেশখালীতে পৌঁছায়। ওই জাহাজের এলএনজি দিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে সরবরাহ চালু করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরবর্তী কার্গো না আসায় সামিটের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এক্সিলারেট বন্ধ থাকার সময় সামিট নিজের সক্ষমতার তুলনায় বেশি গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল। পরে এলএনজি সংকট দেখা দিলে সামিটের সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে দেশে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানি কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল। দেশে প্রায় নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাকি গ্যাস দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে।

গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ গড়ে টার্মিনালগুলোর সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকের মধ্যে ছিল। এতে দেশে গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটও অব্যাহত রয়েছে। সামিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে মোট সরবরাহ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top