ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মসজিদে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নাজিবাবাদের মকবারা এলাকার নাজিবুদ্দৌলা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অভিযোগ, মসজিদটিতে আজানের সময় লাউডস্পিকারের শব্দ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল।
পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সদস্যরা মসজিদ থেকে উচ্চ শব্দে আজান শুনতে পান। পরে মসজিদে গিয়ে তাঁরা মোহাম্মদ ফাইজানকে আজান দিতে দেখেন। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক সৌরভ সিং নাজিবাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ফাইজানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার, শব্দবর্ধক যন্ত্র ও মাইক্রোফোন জব্দ করে পুলিশ। পরে তাঁকে মহকুমা শাসকের আদালতে হাজির করা হলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, মসজিদ পরিচালনা কর্তৃপক্ষের লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। শব্দবর্ধক যন্ত্রের আওয়াজ মসজিদের বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় শব্দদূষণ ও পথচারীদের অসুবিধা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত শব্দে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থ মানুষের ক্ষতি হতে পারে।
তবে ঘটনাস্থলে শব্দের মাত্রা কত ডেসিবেল ছিল, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার ও সরঞ্জাম জব্দের আগে ডেসিবেল মিটার দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শব্দ পরিমাপ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজনোর পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় স্থানগুলোতে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
এদিকে, এলাকায় শব্দদূষণবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিট কনস্টেবলদের কাছ থেকে হলফনামা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট কনস্টেবলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসেও বিজনোর জেলা প্রশাসন ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছিল। ওই সময় মসজিদ, মন্দির ও গুরুদুয়ারা থেকে লাউডস্পিকার সরিয়ে নেওয়া হয়।
উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারিতে রয়েছে। ২০২০ সালের ১৫ মে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত এক রায়ে বলেছিলেন, আজান ইসলামের ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হলেও লাউডস্পিকার বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের মাধ্যমে আজান দেওয়া ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়। আদালত আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণবিধি মেনে চলতে হবে।


