ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান সরকারের আর্থিক সহায়তার পথ সংকুচিত করাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মার্কিন মিত্রদেরও নিষেধাজ্ঞা সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাতকে আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটির তেল আয়ের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের হয়ে কাজ করার অভিযোগে ৬০টি প্রতিষ্ঠান, জাহাজ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। বেসেন্ট এটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
‘ডি-ডে’ শব্দটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বড় সামরিক অবতরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে এ নামে অভিহিত করে ওই ঐতিহাসিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন বেসেন্ট।
ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট ও ইরানের নেতৃত্ব কাজ করবে।
এরই মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান। তার ভাষ্য, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলে সেটিকে যুদ্ধের শামিল পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো এলাকায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও ওয়াশিংটন উড়িয়ে দিচ্ছে না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই অঞ্চলের কোথাও সামরিক হামলার সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনার বাইরে রাখা হয়নি।


