বাংলাদেশের ভারত ও হংকংয়ের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে চুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি। ইন্টারস্পিড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে করা চুক্তি, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থ পরিশোধ এবং নির্ধারিত ব্যয়ের বাইরে খরচসহ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।
গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল। প্রতিটি ম্যাচেই জাতীয় স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য এবং স্পন্সরদেরও আগ্রহ দেখা যায়। তবে এসব ম্যাচের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রায় এক বছর পরও প্রকাশ করেনি বাফুফে।
এর আগে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে আনুষ্ঠানিক টেন্ডার ছাড়াই হাইভোল্টেজ কোম্পানিকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই ম্যাচের ব্যয় বহন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্পন্সর সংগ্রহ করে তারা আয়ও করেছিল। বাফুফের ম্যাচ ঘিরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের এভাবে ব্যবসা করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ভারত ও হংকং ম্যাচের জন্য ইন্টারস্পিডের সঙ্গে চুক্তি করে ফেডারেশন।

অডিট কমিটির পর্যালোচনায় অবশ্য সেই চুক্তি নিয়েই বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইন্টারস্পিডের চুক্তিতে অস্বচ্ছতা রয়েছে। পাশাপাশি তুলনামূলক বিবরণী (সিএস) অনুযায়ী পৃষ্ঠপোষকতার অর্থ পরিশোধ না করা, নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ এবং সিএস তৈরির পর চুক্তি, পারচেজ অর্ডার (পিও) বা ওয়ার্ক অর্ডার (ডব্লিউও) না থাকার মতো বিষয়ও উঠে এসেছে।
দুটি ম্যাচের ব্যবস্থাপনায় অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে বাফুফের বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব নিয়েও ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তাদের মূল দায়িত্ব ছিল ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা। অর্থ আদায়ের দায়িত্ব ফিন্যান্স বিভাগের।
ইন্টারস্পিডকে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রকিউরমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরীও জানিয়েছেন, তাদের কাজ ছিল দর মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা যাচাই করে কার্যাদেশ দেওয়া। চুক্তি অনুযায়ী অর্থ আদায় না হলে সেটি প্রকিউরমেন্ট কমিটির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, বাফুফের মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকিউরমেন্ট ও কম্পিটিশন কমিটিই বিষয়টি দেখেছে এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রেজেন্টেশন বিবেচনা করে প্রকিউরমেন্ট কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
ইন্টারস্পিডের সঙ্গে চুক্তিতে বাফুফের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। অডিট কমিটির পক্ষ থেকে গত ২০ আগস্ট তাকে এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোস্তফা মহসিনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে ভারত ও হংকং ম্যাচসংক্রান্ত চুক্তি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে তুষার জানিয়েছেন, ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তিনি তখন বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারেননি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


