বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ভারত। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ এবং সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মতো শর্ত পূরণ না হলে দিল্লি সফরে যেতে আগ্রহী নয় ঢাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুই দফায় ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও ১৬ আগস্ট দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পক্ষে মত দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি শর্ত পূরণ হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতে পারেন। শর্তগুলো হলো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো, ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ এবং সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতের কাছে একাধিক চিঠি দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে দেশটির আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়েও ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা দিল্লিতে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের পাশাপাশি ভিসা ও বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়েও বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের কয়েকজন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর করা উচিত নয়।


