দীর্ঘদিনের সীমান্ত বন্ধ ও চলমান মানবিক সংকটের মধ্যেই তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে ৭২৪টি মানবিক সহায়তাবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। জাতিসংঘের হিসাবে, এসব সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানে জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী মুহাম্মাদ ইয়াহিয়া শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় পাকিস্তান সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের কারণে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নিয়মিত বাণিজ্যের জন্য সীমান্ত পারাপার বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। এতে করাচি হয়ে আফগানিস্তানে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের সীমান্ত অচলাবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে কয়েক দশ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কাছে খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই মানবিক কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন। জাতিসংঘের উদ্যোগে সহায়তা করতে পারা এবং আফগানিস্তানের সহায়তাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধও অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য সীমান্ত পারাপার বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেও মানবিক সহায়তা পরিবহনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বজায় রেখেছে পাকিস্তান।
এর আগে গত মাসে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তা বহনকারী ২৬টি গাড়ির মধ্যে ২১টিকে তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ ৭২৪টি ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা ও নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যেও আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ কার্যকর রয়েছে।


