তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশ এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হবে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, চুক্তিটিকে তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। সময়ের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন অঞ্চলের সব দেশ একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে আসবে।
এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ধাপে মিসরও চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি বিষয় এখনো সমাধান করা বাকি রয়েছে। কায়রো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে। এতে ন্যাটোর মতো একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এরদোয়ানের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোকেই নিতে হবে। তাঁর মতে, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানও এ অঞ্চলের শক্তিগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই করা উচিত এবং এই চুক্তি সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।
তিনি আরও বলেন, বাইরের দেশগুলোর চাপিয়ে দেওয়া সমীকরণ এড়িয়ে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান অতীতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন এরদোয়ান। তাঁর মতে, এর ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিসরও আরও বাড়তে পারে।


