আফগানিস্তানে এক বছরে ৩ লাখের বেশি কর্মসংস্থান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জোর

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিরতার পর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে অর্থনীতি, জনসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। দেশটির সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিভিন্ন খাতে ৩ লাখের বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

‘গণমাধ্যমের আয়নায় সরকার’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের মতে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনসেবা খাতের উন্নয়ন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতি মন্ত্রণালয় ৮৬টি দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে। এর ফলে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৬২ হাজারের বেশি ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করেছে এবং ৪৫ হাজারের বেশি মানুষকে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আফগানিস্তানে এক বছরে ৩ লাখের বেশি কর্মসংস্থান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জোর

সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিক সেবা খাতেও কার্যক্রম বেড়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ও তথ্য কর্তৃপক্ষ ১৪৪৭ হিজরি বছরে ২০ লাখের বেশি ইলেকট্রনিক পরিচয়পত্র বিতরণ করেছে। পাশাপাশি ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সাধারণ পাসপোর্ট এবং ৫১২টি শিক্ষার্থী পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৬ হাজার বিদেশির ভিসার মেয়াদ নবায়ন করা হয়েছে।

যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫০টি নতুন টেলিযোগাযোগ টাওয়ার স্থাপন এবং ৮৫১ কিলোমিটারের বেশি অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজধানী কাবুলে পৌরসেবার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাবুল পৌরসভা ১৪ হাজার বাণিজ্যিক ইউনিটকে লাইসেন্স দিয়েছে, ৫ লাখ ৩১ হাজারের বেশি চারা ও ফুলের গাছ রোপণ করেছে এবং ৬ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা পরিষ্কারের কাজও পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের পাশাপাশি একটি বড় প্রশ্নও সামনে রয়েছে—এসব উদ্যোগের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আনছে। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণে কতটা অবদান রাখবে, সেটিই হবে এসব কার্যক্রমের প্রকৃত মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড।

দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচিত আফগানিস্তান এখন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সেবামুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সরকারের প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই পথে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সামনে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top