ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার গভীর অপব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছে বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো। বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে সংস্থাটি বলছে, এই ঘটনায় ফিফার নেতৃত্বের প্রতি খেলোয়াড়দের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হলেও সংকট শেষ হয়নি বলে মনে করছে ফিফপ্রো। তাদের ভাষ্য, কেবল পরিকল্পনা বাতিল করলেই বিশ্বাসের ঘাটতি পূরণ হবে না।
বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের সূত্র
বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপিত সেই প্রস্তাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল।

তবে পরিকল্পনাটি সামনে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে। সেই বিরোধিতার মুখে গত সপ্তাহে ফিফা জানায়, তারা এফএফই গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। মরক্কোয় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি এই উদ্যোগকে ভুল বলে স্বীকারও করে।
ফিফপ্রোর কড়া প্রতিক্রিয়া
ফিফপ্রোর মতে, পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা ছিল অনিবার্য। তবে তারা মনে করে, শুধু সিদ্ধান্ত বদল করলেই পুরো বিষয়টির দায় শেষ হয়ে যায় না।
সংগঠনটি বলেছে, এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহারের উদাহরণ। তাদের দাবি, এই ঘটনার ফলে ফিফার প্রতি খেলোয়াড়দের আস্থা মৌলিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়
ফিফপ্রো বলছে, ভবিষ্যতে কিছু সংস্কারের ঘোষণা বা অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব হবে না।
তাদের ভাষ্য, যেসব সুশাসন ব্যবস্থা আগে থেকেই থাকা উচিত ছিল, সেগুলো এখন বাস্তবায়ন করলেও অতীতের সিদ্ধান্তের দায় মুছে যাবে না। বরং এই সংকট থেকে ফুটবলকে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।
পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তনের দাবি
ফিফপ্রো ইতোমধ্যে ফিফার মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পরিচালনা কাঠামোয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতির দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া, সেটিকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ বা ফিফাকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এই ইস্যুতে ফিফার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পরিচালনা কাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনা এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের নজরে রয়েছে।


