বিশ্বকাপে ছয়টি আসর খেলেও নকআউট পর্বে কখনো গোল করতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অবশেষে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বহুদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধের ২০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি।
এর ঠিক দুই মিনিট আগে রোনালদোর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল। তবে হতাশ না হয়ে পরের সুযোগেই তিনি স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠান। মাঝ বরাবর নেওয়া শটে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন পর্তুগিজ তারকা।

২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান
২০০২ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে এবারই ষষ্ঠ আসরে খেলছেন রোনালদো। এতদিন তার সব বিশ্বকাপ গোলই এসেছিল গ্রুপ পর্বে। জাতীয় দলের হয়ে পাঁচবার নকআউটে উঠলেও গোলের দেখা পাননি। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
এই গোলটি বিশ্বকাপে রোনালদোর ব্যক্তিগত ১১তম। পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। এর আগে চলতি আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।
বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন একটি মাইলফলক গড়েছেন রোনালদো। ৪১তম জন্মদিনের পর নকআউট ম্যাচে মাঠে নামা প্রথম ফুটবলার তিনি। সেই ম্যাচেই নিজের প্রথম নকআউট গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন দিনটি।
২০০২ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন রোনালদো। এরপর ২০০৬ ও ২০১০ আসরেও করেছিলেন একটি করে গোল। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ ছিল তার সবচেয়ে সফল আসর, যেখানে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ মোট চারটি গোল করেছিলেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার ঝুলিতে যোগ হয়েছিল একটি গোল।
নকআউটে গোলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডেই নতুন মাত্রা যোগ করেনি, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পর্তুগালকে সমতায় ফেরানোর মাধ্যমে দলকেও নতুন করে লড়াইয়ে ফিরিয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পর্তুগালের লক্ষ্য হবে এই গতি ধরে রাখা।


