মেসির রেকর্ড নয়, বিশ্বকাপ জিততেই সব মনোযোগ এমবাপের

লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন কিলিয়ান এমবাপে। তবু ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ফ্রান্সকে আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জেতানোই তার একমাত্র লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

ফাইনালই এমবাপের মূল লক্ষ্য

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডের লড়াইও জমে উঠেছে। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন মেসি। তার ঠিক পেছনেই ১৮ গোল নিয়ে অবস্থান করছেন এমবাপে।

তবে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করার পর ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আগ্রহ দেখাননি ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দলের লক্ষ্য যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া এবং ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।

মেসির রেকর্ড নয়, বিশ্বকাপ জিততেই সব মনোযোগ এমবাপের

মাত্র ১৮ বিশ্বকাপ ম্যাচে ১৮ গোল করা এমবাপে বলেন, গোল করলে অবশ্যই গোলদাতাদের তালিকায় ওপরে ওঠা যায়। কিন্তু সেটিই তার মূল চিন্তা নয়। তার পুরো মনোযোগ দলকে নিয়ে শিরোপার আরও কাছে পৌঁছানোর দিকে।

মেসির গোল বাড়বে বলেই বিশ্বাস

মেসির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এমবাপে মনে করেন, আর্জেন্টাইন অধিনায়কও সামনে আরও গোল করবেন। তাই এই প্রতিযোগিতা নিয়ে তিনি আলাদা করে ভাবছেন না।

ফরাসি তারকার ভাষ্য, সামনে যেসব প্রতিপক্ষ আসবে, তাদের বিপক্ষে সেরা পারফরম্যান্স করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের সাফল্যই তার কাছে বেশি মূল্যবান।

সামনে কঠিন পরীক্ষা

আগামী শুক্রবার দিবাগত রাতে শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। সেই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক কানাডা অথবা মরক্কোর মুখোমুখি হবে।

জার্মানিকে রক্ষণাত্মক কৌশলে আটকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া প্যারাগুয়ে এবারও একই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উন্নতির জায়গাও দেখছেন এমবাপে

জার্মানির বিদায়ের উদাহরণ সামনে রেখেই সতর্ক থাকতে চাইছেন এমবাপে। তার মতে, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নামার আগে দলকে আরও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। কিছু মুহূর্তে ফ্রান্স প্রত্যাশামতো কার্যকর হতে পারেনি, তাই সেগুলো নিয়েই কাজ চলছে।

তবে আক্রমণভাগের শক্তি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ৫৩টি গোল করেছে, যা এই সময়ে যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ গোল করেছে জার্মানি ও আর্জেন্টিনা।

এমবাপের বিশ্বাস, গোল করার এই ধারাবাহিক সামর্থ্যই নকআউট পর্বের কঠিন ম্যাচগুলোতে ফ্রান্সকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। প্যারাগুয়ে বাধা পেরোতে পারলে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বর্তমান শক্তিশালী ফরাসি দল।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top