ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সুইডেন। ৩-০ গোলের হারে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার প্রশংসা করে সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার বলেছেন, ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের মানই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নেমেছিল সুইডেন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে তাদের। প্লে-অফ পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া সুইডেন নকআউট পর্বে আর এগোতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে নিজের দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব অকপটে স্বীকার করেছেন সুইডেনের ইংলিশ কোচ গ্রাহাম পটার। তাঁর ভাষায়, ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত মান অনেক বেশি। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে নিজের দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান।

এমবাপের প্রশংসায় পটার
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এমবাপেকে নিয়ে পটার বলেন, তিনি এমন একজন ফুটবলার যিনি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।
সুইডেন কোচের মতে, এমবাপের গতি, শক্তি ও কারিগরি দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এমন মানের খেলোয়াড়কে সামলানো সব দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কাজে আসেনি
ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকাতে সুইডেনের নির্দিষ্ট রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন পটার। তবে প্রতিপক্ষের উচ্চমানের ফুটবলের সামনে সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি।
তিনি বলেন, দল কৌশল নিয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা এতটাই বেশি ছিল যে তাদের থামানো সম্ভব হয়নি।
প্রথমার্ধে আশা দেখেছিল সুইডেন
ম্যাচের শুরুতে ফ্রান্স একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আরও একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। সেই সময় ম্যাচ ভিন্ন দিকে যেতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পটার বলেন, পোস্টে লেগে ফিরে আসা বলগুলো গোল হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারত।
তিনি জানান, প্রথমার্ধে সুইডেনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই ধারাবাহিকতা আর বজায় রাখতে পারেনি দলটি।
ফ্রান্সের এই জয় তাদের বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে প্লে-অফ পেরিয়ে মূল আসরে ওঠা সুইডেনের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো রাউন্ড অব ৩২ থেকেই।


