ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, শেষ ৩২–এ কে কার মুখোমুখি। নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে এবার প্রথমবারের মতো রাউন্ড অব ৩২ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই নকআউট।
অর্থাৎ হারলেই বিদায়, জিতলেই শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত। নিচে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর পূর্ণ ম্যাচ তালিকা, নতুন ফরম্যাট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো।
শেষ ৩২–এ কে কার মুখোমুখি
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে। ১২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল এই পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। প্রতিটি ম্যাচ এক লেগে অনুষ্ঠিত হবে এবং ড্র হলে অতিরিক্ত সময় ও প্রয়োজন হলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচগুলো হলো:
১. কানাডা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
২. ব্রাজিল বনাম জাপান
৩. জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে
৪. নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো
৫. আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে
৬. ফ্রান্স বনাম সুইডেন
৭. মেক্সিকো বনাম ইকুয়েডর
৮. ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো
৯. বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল
১০. যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা
১১. স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া
১২. পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া
১৩. সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া
১৪. অস্ট্রেলিয়া বনাম মিশর
১৫. আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে
১৬. কলম্বিয়া বনাম ঘানা

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নতুন নকআউট ফরম্যাট
ফিফা এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। আগের ৩২ দলের টুর্নামেন্টের পরিবর্তে এখন ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো খেলেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠেছে। এছাড়া সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। ফলে নকআউট পর্ব আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাউন্ড অব ৩২ থেকে শেষ ষোলোতে যাওয়ার নিয়ম
রাউন্ড অব ৩২-এর প্রতিটি ম্যাচই নকআউট ভিত্তিক। কোনো দল নির্ধারিত সময়ে জয় না পেলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। এরপরও সমতা থাকলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
১৬টি ম্যাচ থেকে বিজয়ী ১৬টি দল শেষ ষোলোতে খেলবে। পরাজিত দলগুলোর বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ হবে।
কোন ম্যাচগুলো সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়
এবারের রাউন্ড অব ৩২-এ বেশ কয়েকটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ রয়েছে।
ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচে একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে দ্রুত উন্নতি করা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল।
পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
এছাড়া আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে, স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া এবং ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো ম্যাচও বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু নকআউট পর্বে সেই সুযোগ নেই।
প্রতিটি ম্যাচই টিকে থাকার লড়াই। তাই দলগুলো সাধারণত আরও পরিকল্পিত ফুটবল খেলে এবং ছোট ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এ কারণেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় বলা হয়।
দর্শকদের জন্য কী জানা জরুরি
নকআউট পর্বে ম্যাচের ফলাফল সরাসরি পরবর্তী রাউন্ড নির্ধারণ করে। তাই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব সমান।
যেসব দল ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে, তাদের জন্যও কোনো ম্যাচ সহজ হবে না। অতীতের বিশ্বকাপগুলোতে নকআউট পর্বে একাধিক অঘটন ঘটেছে, তাই এবারও চমকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
FAQs
শেষ ৩২–এ কে কার মুখোমুখি?
রাউন্ড অব ৩২-এ মোট ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ম্যাচ হলো ব্রাজিল বনাম জাপান, আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে, পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২ কী?
এটি নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট পর্ব, যেখানে ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে।
রাউন্ড অব ৩২ থেকে কয়টি দল শেষ ষোলোতে উঠবে?
১৬টি ম্যাচের বিজয়ী ১৬টি দল শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেবে।
নকআউট ম্যাচ ড্র হলে কী হবে?
নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকলে অতিরিক্ত সময় অনুষ্ঠিত হবে। এরপরও ফল না এলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ কেন রাউন্ড অব ৩২ যোগ করা হয়েছে?
দলের সংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮ হওয়ায় নতুন ফরম্যাটে অতিরিক্ত একটি নকআউট পর্ব যুক্ত করা হয়েছে।
উপসংহার
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নতুন ফরম্যাট নকআউট পর্বকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। যারা জানতে চাচ্ছেন শেষ ৩২–এ কে কার মুখোমুখি, তাদের জন্য পুরো ম্যাচ তালিকা এখন নিশ্চিত।
প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি পরাজয় মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। তাই বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপের প্রতিটি লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে দারুণ উপভোগ্য।


