অরুণাচলে ১৫ অননুমোদিত মসজিদ সিলগালা, নতুন বিতর্কে বিজেপি সরকার

অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী অঞ্চলে অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ১৫টি মসজিদ সিলগালা করেছে রাজ্য প্রশাসন। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির পর নেওয়া এই পদক্ষেপকে ঘিরে অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে অনুমোদনবিহীন ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করেছে রাজ্য সরকার। রাজধানী ইটানগর অঞ্চলে অবস্থিত এসব স্থাপনা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ছাড়া নির্মিত হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি।

স্থানীয় আদিবাসী যুব সংগঠন অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এপিআইওয়াইও) দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। সংগঠনটির অভিযোগ ছিল, অবৈধ বসতি ও অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই দাবির অংশ হিসেবে সংগঠনটি সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী বন্ধও পালন করে। পাশাপাশি তাদের পক্ষ থেকে আরও বড় আন্দোলনের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল।

কীভাবে সামনে এলো বিষয়টি

রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পিডি সোনা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সঙ্গে আদিবাসী নেতাদের বৈঠকে প্রথম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

এরপর রাজধানী কমপ্লেক্স এলাকায় অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক জরিপে ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ চিহ্নিত হওয়ার পর সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রথম ধাপে ১২টি মসজিদ সিলগালা করা হয়। পরে ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী প্রতিনিধিদের আরেক দফা বৈঠকের পর অবশিষ্ট তিনটির বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অনুপ্রবেশ ও পরিচয় রক্ষার প্রশ্ন

অরুণাচল প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অংশ।

রাজ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, উন্মুক্ত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের কারণে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষাপটে স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষিত বিভিন্ন সাংবিধানিক সুরক্ষা কার্যকর রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর নেতৃত্বে ছাত্র সংগঠন, উপজাতীয় প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, আইন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী খাণ্ডু বলেছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে আইএলপি ব্যবস্থার তদারকি ও বাস্তবায়নের জন্য পৃথক একটি বিশেষ বিভাগ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনের আশা, আইনি কাঠামোর মধ্যেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top