আশ্রয় নিয়েও ফিরিয়ে দিলেন, ইরানি ফুটবলারের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনের কারণ কী

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন ইরান নারী ফুটবল দলের সাত সদস্য। কিন্তু বুধবার সকালে তাদের একজন মত বদলে ইরানি দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। এই সিদ্ধান্তে বাকি ছয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার।

জাতীয় সংগীত থেকে শুরু সংকটের

গত মাসে এএফসি এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় যায় ইরানের নারী ফুটবল দল। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতে গলা না মেলানোয় দেশে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করে। একই সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

বিমানবন্দরে ঠেকানোর চেষ্টা

গত রোববার এশিয়ান কাপ থেকে বিদায়ের পর মঙ্গলবার রাতে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে গিয়েছিল দলটি। ইরানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয়রা সিডনির টিম হোটেলের সামনে ও বিমানবন্দরে অবস্থান নেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ফিরে গেলে এই ফুটবলাররা নিরাপদ থাকবেন না।

আশ্রয় নিয়েও ফিরিয়ে দিলেন, ইরানি ফুটবলারের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনের কারণ কী

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, দল ছাড়ার আগে কর্মকর্তা ও দোভাষীরা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে ডেকে মানবিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দেন। কোনো তাড়াহুড়ো বা চাপ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সাতজন রাজি, পরে একজন সরে গেলেন

অধিনায়ক জাহরা গানবারিসহ মোট সাতজন, এক সাপোর্ট স্টাফসহ, আশ্রয়ের প্রস্তাবে সম্মত হন। তাদের জন্য সাময়িক মানবিক ভিসার ব্যবস্থা করা হয়, যা স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি করবে।

কিন্তু পরদিন সকালে একজন মত পাল্টান এবং দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আইনজীবী আরা রাসুলি বলেন, পরিবারকে আটক বা সম্পত্তি দখলের হুমকিই মূলত খেলোয়াড়দের ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাধ্য করছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top