বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন ঘিরে যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল, সেটা এবার আনুষ্ঠানিক তদন্তের মুখোমুখি হলো। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বুধবার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করা হয়েছে এই কমিটির।
যেভাবে এলো তদন্তের সিদ্ধান্ত
গত ৮ মার্চ তামিম ইকবালসহ শীর্ষ ক্লাবগুলোর কর্মকর্তা ও কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন এনএসসিতে। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কাউন্সিলর তামিমের পাশাপাশি ছিলেন মোহামেডানের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, মাসুদউজ্জামান ও সাবেক বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহাসহ অনেকে।
সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনএসসি।

পাঁচ সদস্যের কমিটিতে কারা
সভাপতি বিচারপতি আসাদুজ্জামানের পাশাপাশি কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালেহ আকরাম।
কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে।
তদন্তের পরিধি কতটুকু
কমিটির কার্যপরিধিতে রয়েছে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ করা।
নির্বাচনের পর থেকেই বিতর্ক
গত অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই কারচুপির অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান তামিম ইকবালসহ অনেক ক্লাব কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠক। এর জেরে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
এই তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে কী পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন সবার নজরে।


