ক্রিকেট মাঠে পরিচিত মুখ, বাইরে অন্য পরিচয়। আইপিএলে খেলা ক্রিকেটার এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা অমিত মিশ্রর বিরুদ্ধে এবার কানপুরের আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী গরিমা। যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়।
ইনস্টাগ্রাম থেকে বিয়ে, তারপর দুঃস্বপ্নের শুরু
২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয় দুজনের। প্রায় তিন বছর প্রেমের পর ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল বিয়ে হয় গরিমা ও অমিতের। কিন্তু বিয়ের পরপরই সম্পর্কের ছবিটা বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন গরিমা।
তার দাবি, বিয়ের পরই অমিত এবং তার পরিবার একটি হোন্ডা সিটি গাড়ি ও নগদ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে শুরু করেন। গরিমার পরিবার আড়াই লাখ টাকা দিলেও নির্যাতন থামেনি।

দিনের পর দিন খাবার বন্ধ, মারধর, আত্মহত্যার চেষ্টা
৩৫ বছর বয়সী মডেল গরিমার অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তিনি জানান, অমিত মদ্যপ অবস্থায় নিয়মিত মারধর ও গালিগালাজ করতেন। অনেক সময় দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে আটকে রাখা হতো তাকে। এমনকি মডেলিং থেকে উপার্জিত অর্থও কেড়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এই একের পর এক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন গরিমা। দীর্ঘদিন গভীর বিষণ্নতায়ও ভুগেছেন তিনি।
পুলিশ নিষ্ক্রিয়, তাই আদালতে
এর আগে ২০১৫ সালেও অমিতের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন গরিমা। এবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তার অভিযোগ, অমিতের প্রভাবের কারণে বারবার পুলিশে গিয়েও এফআইআর নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
মামলায় অমিতের পাশাপাশি তার বাবা-মা, ভাই ও বোনকেও আসামি করা হয়েছে।
ক্রিকেট মাঠের বাইরের অন্ধকার
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, পরিচিতি বা পদমর্যাদা পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুক নির্যাতনের ঘটনাকে আড়াল করতে পারে না। গরিমার এই লড়াই শুধু তার একার নয়, এটি সেই প্রতিটি নারীর প্রতিনিধিত্ব করে যারা ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।


