বিশ্বকাপ ফাইনালে দুর্দান্ত এক ওভার করেও শেষ রক্ষা হয়নি। তবে ম্যাচ হারের বেদনা মেলানোর আগেই নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জেমস নিশাম আলোচনায় এলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাত্র কয়েকটি শব্দে তিনি উন্মোচন করলেন ক্রিকেটের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা।
ফাইনালে যে ওভার সবার নজর কেড়েছিল
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গতকালের ফাইনালে ভারত একচেটিয়া আধিপত্য দেখাচ্ছিল। পাওয়ার-প্লে শেষেই বিনা উইকেটে ৯২ রান তুলে নিয়ে স্কোর ২৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ভারত।
সেই পরিস্থিতিতে ১৬তম ওভারে নিশাম এনে দেন চমক। প্রথম বলে বিপজ্জনক সঞ্জু স্যামসনকে ফেরান, পরের বলে হাফসেঞ্চুরি করা ইশান কিষানকে আউট করেন, তারপর সূর্যকুমার যাদবকে শূন্যতে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন। পুরো ওভারে দেন মাত্র এক রান।
তবে সেই মুহূর্তের উত্তেজনা বেশিক্ষণ টেকেনি। শেষ ওভারে ২৪ রান দেন নিশাম, ভারত পৌঁছায় ৫ উইকেটে ২৫৫ রানে। ৯৬ রানে হেরে ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় নিউ জিল্যান্ড।

প্রশংসার পোস্টে যে জবাব কেউ আশা করেনি
ম্যাচ শেষে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের দল পুখারা অ্যাভেঞ্জার্স সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশামকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার পোস্ট দেয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের বড় মঞ্চে তার সেই ওভারের প্রশংসা করে জানায়, তাদের হয়ে খেলার জন্য তারা গর্বিত।
কিন্তু নিশামের জবাব ছিল মাত্র কয়েকটি শব্দে, ‘ভালো, খেলোয়াড়দের টাকা দিন।’
এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল, ক্লাবটির কাছে তার বকেয়া পারিশ্রমিক এখনো পরিশোধ হয়নি। ফাইনালের রাতের উচ্ছ্বাসের মাঝে নিশামের এই কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
এবার নড়েচড়ে বসল ক্লাব
নিশামের মন্তব্যের পর নেপালের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, পুখারা অ্যাভেঞ্জার্স ইতিমধ্যে নিশামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ১০ মার্চের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
গত মৌসুমে এনপিএলে সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটি জিতে পঞ্চম স্থানে শেষ করেছিল দলটি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার মাঠের বাইরেও প্রশ্নবিদ্ধ হলো তারা।
ক্রিকেটের উজ্জ্বল মঞ্চের আড়ালের গল্প
বিশ্বকাপের মতো জমকালো আসরের পাশেই এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চকচকে বাইরের আড়ালে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বহু জায়গায় বাস্তবতা।
নিশামের মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার যখন প্রকাশ্যে এই কথা বলতে বাধ্য হন, তখন প্রশ্নটা শুধু একটি ক্লাবকে নয়, পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোকেই ঘিরে ধরে।


