উজবেকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার রোমাঞ্চ নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু স্বপ্নের সেই যাত্রা শেষ হলো তিন ম্যাচে তিন হারের বেদনা বুকে নিয়ে। সোমবার পার্থে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল পিটার বাটলারের দল।

লড়াই ছিল, কিন্তু গোল এলো না

চীন বা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যেভাবে একতরফাভাবে হেরেছিল, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা সেরকম ছিল না। পিছিয়ে পড়েও মাথা না নামিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ।

ঋতুপর্ণা চাকমা ৩০ মিনিটে ডিফেন্ডার কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষের গোলকিপার দুর্দান্ত সেভে থামিয়ে দেন। ৪২ মিনিটে তহুরা খাতুনের পায়ে বল এলে গোলকিপার দ্রুত বেরিয়ে পথ আগলে ধরেন। কোহাতি কিসকুর শট, মারিয়া মান্দার হেড, আনিকার প্রচেষ্টা, কিছুই জালে যায়নি। সুযোগ আসছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।

উজবেকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

দ্বিতীয়ার্ধে ভেঙে পড়া

প্রথমার্ধে মাত্র একটি গোল হজম করে টিকে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে সব ভেঙে পড়ে। ৬২ মিনিটে দিলদোরা নজিমোভার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়, চার মিনিট পরেই আরেকটি গোলে ম্যাচ কার্যত শেষ।

৭০ মিনিটে একটি গোল ভিএআর চেকে বাতিল হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের জন্য সেটুকুই সুখবর ছিল। শেষ দিকে নিলুফারের চতুর্থ গোলে স্কোরলাইন হয় ৪-০।

তিন ম্যাচে ১১ গোল, নিজেরা গোলশূন্য

এবারের আসরে ১২টি দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে নিচে ছিল বাংলাদেশ, ১১২তম স্থানে। চীনের বিপক্ষে ২-০, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪-০, মোট তিন ম্যাচে ১১টি গোল খেয়েছে দল। নিজেরা একটি গোলও করতে পারেনি।

গ্রুপে চার দলের মধ্যে সবার নিচে থেকে আসর শেষ করল বাংলাদেশ।

ইতিহাস তবু তৈরি হয়েছে

ফলাফলের হিসাবে হয়তো হতাশার, কিন্তু এই অংশগ্রহণ নিজেই একটি ইতিহাস। এর আগে কখনো এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলেনি বাংলাদেশ। প্রথমবার মঞ্চে উঠে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠে নামার সাহসটুকুই অনেক বড় প্রাপ্তি।

আগামীকাল সকালের ফ্লাইটে পার্থ থেকে ঢাকায় ফিরবে দলটি। ফেরার পথে পকেটে না থাকুক পয়েন্ট, অভিজ্ঞতার ঝুলি কিন্তু ভরা।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top