টানা তিন হার। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা শেষ হয়েছে নিষ্ঠুরভাবে। আর এই বিদায়ের পরই ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার এমন কিছু বললেন, যা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যে কথা অনেকদিন বুকে চেপে রেখেছিলেন
পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বাটলার সরাসরি বলে দিলেন, তিনি বাংলাদেশে থাকছেন না। ইংল্যান্ডে ফিরে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভালোভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বাফুফের সঙ্গে তার চুক্তি এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও তিনি স্পষ্ট করলেন, পর্যাপ্ত সমর্থন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তার ভাষায়, এই কথা অনেকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছিল। আর এশিয়ান কাপের এই বিদায় যেন সেই চাপা কষ্টকে বাইরে বের করে আনল।

‘এক হাত বেঁধে লড়াই করার’ যন্ত্রণা
বাটলার তার হতাশার কারণ বোঝাতে একটি শক্তিশালী উপমা ব্যবহার করলেন। তিনি বললেন, নিজেকে মনে হচ্ছিল এমন একজন বক্সারের মতো, যে এক হাত পেছনে বেঁধে রিংয়ে নেমেছে।
উজবেকিস্তান ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৬০ থেকে ৭০ ধাপ এগিয়ে। শারীরিক শক্তিতেও তারা অনেক এগিয়ে। তার ওপর প্রতিপক্ষ আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রস্তুতি নেয়। বাংলাদেশের সেই সুযোগ-সুবিধা নেই বলে সরাসরি স্বীকার করলেন তিনি।
তবুও এই পরিস্থিতিতে এশিয়ান কাপে পৌঁছানোকে বাটলার নিজেই বললেন অনেকটা অলৌকিক ব্যাপার।
স্কোরলাইন পুরো গল্প বলে না
৪-০ ব্যবধানের হার নিয়ে বাটলার বললেন, এই স্কোর মাঠের পুরো চিত্র তুলে ধরে না। বেশিরভাগ সময় দল তুলনামূলক ভালো ফুটবল খেলেছে। কিন্তু ব্যবধানটা তৈরি হয়েছে সামগ্রিক সক্ষমতার ফারাকে।
তবে রক্ষণভাগ নিয়ে তিনি আলাদাভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। তার ভাষ্যমতে, এক বা দুইজন খেলোয়াড় মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়েছেন এবং সহজ পথ বেছে নিয়েছেন। যেসব জাতীয় দলকে তিনি এতদিন কোচিং করেছেন, ছেলে হোক বা মেয়ে, কেউ কখনো হাল ছাড়েনি। এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
মেয়েদের প্রশংসা, তবু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
হতাশার মাঝেও বাটলার দলের মেয়েদের কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না। বললেন, তারা অনেক দূর এসেছে। এই স্বীকৃতি এসেছে একজন সৎ কোচের কাছ থেকে, যিনি জানেন সুযোগ-সুবিধার বাইরে গিয়ে মেয়েরা কতটা পরিশ্রম করেছেন।
আগামীকাল সকালের ফ্লাইটে দলটি পার্থ থেকে ঢাকায় ফিরবে। কিন্তু ফেরার পথে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঝুলছে, বাটলারের পর বাংলাদেশ নারী ফুটবলের হাল ধরবেন কে?


