সাকিবের ফেরা নিয়ে কোচ সিমন্সের চমকে দেওয়া স্বীকারোক্তি

দেশে নেই, তবু দেশের ক্রিকেটে তার নাম বারবার উঠে আসছে। সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানো নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানালেন, সাকিবের ফেরা নিয়ে তার কাছে কোনো বাড়তি তথ্যই নেই।

সাকিব প্রশ্নে কোচের সরাসরি জবাব

সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিল সিমন্স বললেন, সাকিবের ফেরার বিষয়ে সাংবাদিকরা যতটুকু জানেন, তিনিও ঠিক ততটুকুই জানেন। পত্রিকার বাইরে তার কাছে এ বিষয়ে আলাদা কোনো খবর নেই।

এই স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিসিবির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, এমনকি জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও সাকিবকে ফেরানোর পক্ষে কথা বলছেন। অথচ দলের মূল কোচ বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্যসমাপ্ত সিরিজেও সাকিবকে দলে দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ঠিক কখন এবং কীভাবে তার প্রত্যাবর্তন সম্ভব হবে।

সাকিবের ফেরা নিয়ে কোচ সিমন্সের চমকে দেওয়া স্বীকারোক্তি

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা

সাকিব প্রসঙ্গ সরিয়ে রেখে সিমন্স দৃষ্টি ফেরালেন ভবিষ্যতের দিকে। আসন্ন বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে, আর সেখানকার পিচ ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই তিনি দলকে ঢেলে সাজাতে চান।

কোচ জানালেন, এখন থেকে অন্তত তিনজন পেস বোলার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পেসাররাই হবেন বাংলাদেশের মূল অস্ত্র, তাই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াটা এখন সবচেয়ে জরুরি।

স্পিনারদের বিষয়েও তিনি স্পষ্ট করলেন। প্রয়োজনে তিনজন স্পিনার খেলানো হতে পারে, তবে এমন পরিস্থিতি আসতে দেওয়া হবে না যেখানে একজন স্পিনারকে মাত্র দুই ওভার বোলিং করেই মাঠ ছাড়তে হয়।

মিডল ওভারই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা

শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও একটি দুর্বলতার কথা খোলামেলাভাবে স্বীকার করলেন সিমন্স। তার মতে, মিডল ওভারগুলোতে দল এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।

৫০ ওভারের ক্রিকেটে মিডল ওভার মানে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সময়। সেই সময়টায় কতটা রান আসছে, কতটি সিঙ্গেল নেওয়া হচ্ছে, কতটি বাউন্ডারি আসছে, এই হিসাবগুলোই এখন দলের মনোযোগের কেন্দ্রে।

সিমন্স বললেন, এই জায়গাটির উন্নতিতেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বড় মঞ্চে চাপে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

সামনের পথ কোথায়?

সাকিবের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, কোচ নিজেই তা মেনে নিলেন। তবে দল নিয়ে তার পরিকল্পনা স্পষ্ট। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে পেস বোলিং শক্তিশালী করা এবং মিডল ওভারে ব্যাটিং উন্নত করাই এখন মূল লক্ষ্য।

সাকিবকে নিয়ে গুঞ্জন চলতে থাকবে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন সিমন্সের কাঁধেই।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top