মিরপুরের উইকেট মানেই স্পিনারদের উৎসব, এটাই যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরচেনা ছবি। কিন্তু এবার সেই ছবি বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেড কোচ ফিল সিমন্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ থেকেই একাদশে নিয়মিত তিনজন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাইগার শিবির। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই কৌশলগত পরিবর্তন বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
স্পিনের আধিপত্যে ঢাকা পড়ে গেছেন পেসাররা
গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা বল করেছিলেন মাত্র ১৫ ওভার। সিরিজের শেষ ম্যাচে একাদশে থাকা একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমান একটি বলও করার সুযোগ পাননি। প্রথম ম্যাচে তাসকিন আহমেদ পেয়েছিলেন মাত্র ২ ওভার, মোস্তাফিজ করেছিলেন ৫ ওভার। দ্বিতীয় ম্যাচে মোস্তাফিজের ভাগে পড়েছিল ৮ ওভার।
সেই সিরিজে স্পিনারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ ১২ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন রিশাদ হোসেন। সেরা দশ উইকেট শিকারীর মধ্যে একমাত্র পেসার হিসেবে মোস্তাফিজ পেয়েছিলেন মাত্র ২টি উইকেট।

সিমন্সের ঘোষণা, তিন পেসার এখন মূল পরিকল্পনা
আগামী ১১ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নামবে বাংলাদেশ। সোমবার ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে হেড কোচ সিমন্স স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, এই সিরিজ থেকেই বদলে যাচ্ছে বোলিং কৌশল।
তিনি বলেন, “আমরা এখন থেকে নিয়মিত তিনজন জেনুইন পেসার নিয়ে খেলার চেষ্টা করব। বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং সেখানে পেসারদের ওপর নির্ভর করতেই হবে। পরিস্থিতি ভেদে হয়তো তিনজন স্পিনারও লাগতে পারে, কিন্তু এক স্পিনার দিয়ে দুই প্রান্তে বোলিংয়ের দিন শেষ।”
বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলে দিচ্ছে ভাবনা
আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আফ্রিকার মাটিতে উইকেট সাধারণত পেস বান্ধব হয়, যেখানে স্পিন নির্ভর দল স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে থাকে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পাকিস্তান সিরিজ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করছে টাইগাররা।
সিমন্স জানিয়েছেন, গন্তব্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি এবং তিন পেসার খেলানো সেই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি।
মিরপুরের উইকেটও বদলাচ্ছে, আশাবাদী সিমন্স
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, মিরপুরের উইকেটে তিন পেসার খেলানো আদৌ কার্যকর হবে কিনা। তবে সিমন্স মনে করছেন পরিস্থিতি বদলে গেছে।
সম্প্রতি বিসিএল ফাইনালে প্রথম ইনিংসে উঠেছে ২৩৮ রান, আর বিসিবি একাদশ ও অল স্টারের ম্যাচে হয়েছে ২৯৫ রান। এই সংখ্যাগুলো বলে দিচ্ছে মিরপুরের চরিত্র ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
সিমন্স বলেন, “আমার কাছে এবারের উইকেটগুলো আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। বিপিএলের শেষ দিকের ম্যাচগুলো দেখেছি, উইকেট এখন অনেক ভালো। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সবসময় ভালো উইকেটে খেলতে চাই যাতে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করা যায়।”
জয়ের ধারা ধরে রাখার লক্ষ্যে টাইগাররা
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের গল্প পেছনে ফেলে এবার আরও উন্নতির পথে হাঁটতে চায় দলটি।
সিমন্স বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন মিডল ওভারে দলের দুর্বলতার কথা। ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই মাঝের ওভারগুলো উন্নত করাকে তিনি দেখছেন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে। পাশাপাশি গত সিরিজের শেষ ম্যাচের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ধরে রাখার কথাও বলেছেন তিনি।
চার মাসের বেশি বিরতির পর ওয়ানডে মাঠে ফিরছে বাংলাদেশ। আর এই প্রত্যাবর্তনটি হচ্ছে নতুন কৌশল ও নতুন সংকল্প নিয়ে।


