দলের সংকটে এগিয়ে আসলেন লিটন, মিডল অর্ডারে নামতে কোনো দ্বিধা নেই তার

মিডল অর্ডার নিয়ে বহুদিন ধরেই ভুগছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে চার-পাঁচ নম্বরে ধারাবাহিক রান নেই, বাউন্ডারি নেই, চাপের মুহূর্তে দলকে টেনে তোলার মতো কেউ নেই। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে কোচ ফিল সিমন্স ঘুরলেন লিটন দাসের দিকে। আর লিটনও দলের ডাকে সাড়া দিতে এক মুহূর্ত দেরি করলেন না।

মিডল অর্ডারের দুর্বলতা স্বীকার করলেন সিমন্স

পাকিস্তান সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ সিমন্স কোনো কিছু লুকালেন না। সরাসরি বললেন, মিডল অর্ডারে দল যতটা চায় ততটা পারফরম্যান্স আসছে না। রান কম হচ্ছে, বাউন্ডারি আসছে না, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে এই অংশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এই সমস্যা নিয়ে দল কাজ করছে এবং লিটনকে সেই শূন্যস্থান পূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দলের সংকটে এগিয়ে আসলেন লিটন, মিডল অর্ডারে নামতে কোনো দ্বিধা নেই তার

কেন ওপেনিং নয়, মিডল অর্ডারে লিটন

এখানে সিমন্সের যুক্তি দুটো। প্রথমত, ৫০ ওভার উইকেটকিপিং করে ওপেনিং করা একজন ক্রিকেটারের জন্য শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। দ্বিতীয়ত, স্পিনের বিপক্ষে লিটন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার। মিডল ওভারে যখন স্পিনারদের আধিপত্য বেশি থাকে, ঠিক সেই সময়েই লিটনের উপস্থিতি দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে বিশ্বাস কোচের।

রাজি করাতে হয়নি, খুশি মনে রাজি লিটন

প্রশ্ন উঠেছিল, মিডল অর্ডারে নামতে লিটনকে রাজি করাতে কোনো কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে কিনা। সিমন্স হেসে বললেন, রাজি করানোর প্রশ্নই আসে না। লিটন নির্ভার মানসিকতায় আছেন এবং দলের যা দরকার তা খুশি মনে করতে সদা প্রস্তুত।

লিটনের এই মনোভাব শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়—এটি একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের দলের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। নিজের পছন্দের পজিশন ছেড়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এগিয়ে আসাটা সহজ কথা নয়।

সিরিজটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই তিন ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য স্রেফ একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে উঠতে হবে। বর্তমানে দশম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজে ভালো ফল করাটা অপরিহার্য। লিটনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের মিডল অর্ডারে উপস্থিতি সেই লড়াইয়ে কতটা কাজে দেয়—সেটাই এখন দেখার।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top