এক লাখ বত্রিশ হাজার দর্শক, প্রায় সবাই ভারতীয়। গোটা স্টেডিয়াম নীল রঙে ছেয়ে যাবে। সেই বিশাল ঢেউয়ের মুখে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বললেন, কোনো ভয় নেই। বরং ওই লাখো মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়ে ট্রফি জিততে চান তিনি। ফাইনালের আগের রাতে তার এই কথাগুলো ভারতীয় শিবিরে নতুন চিন্তার খোরাক দিয়েছে নিশ্চিতভাবেই।
ফেভারিট নই, তবু পিছিয়ে নেই
ভারত যে এই ফাইনালে স্পষ্ট ফেভারিট, সেটা মানতে কোনো আপত্তি নেই স্যান্টনারের। কিন্তু তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, এই তকমা তার দলকে একটুও দমাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার দল পরিস্থিতি বা প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভয় না পাওয়ার চেষ্টা করে। মাঠে নেমে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করাই তাদের লক্ষ্য। ফেভারিট না হওয়া নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।
এরপরেই তিনি উচ্চারণ করলেন সেই সাহসী কথাগুলো—ট্রফি জেতার জন্য কিছু হৃদয় ভাঙতে তার আপত্তি নেই।

একই মঞ্চে কামিন্সের স্মৃতি
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এর আগেও এমন কথা শোনা গিয়েছিল। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন, তিনি এই গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দিতে চান। শেষ পর্যন্ত কামিন্স কথা রেখেছিলেন—ভারতকে হারিয়ে ট্রফি নিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
এবার একই সুর স্যান্টনারের গলায়। ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনিং অলরাউন্ডারের মতে, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার চাপটা আসলে ভারতের ওপরেই বেশি। দর্শকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার সুযোগটা তিনি লুফে নিতে চান।
সেমিফাইনালের দাপট পিছনে
ফাইনালে আসার পথটাও মসৃণ ছিল নিউজিল্যান্ডের। সেমিফাইনালে গতবারের রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে আহমেদাবাদে এসেছে কিউইরা। এই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে বলে জানালেন স্যান্টনার।
তিনি মনে করেন, দলগত পারফরম্যান্স এবং ছোট ছোট বিষয়গুলো সঠিকভাবে সামলাতে পারলে শিরোপার দৌড়ে নিউজিল্যান্ড পিছিয়ে থাকবে না।
ইতিহাস নিউজিল্যান্ডের পক্ষে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনবার ভারতের মুখোমুখি হয়েছে নিউজিল্যান্ড। তিনটিতেই জিতেছে কিউইরা। আর গত এগারো বছরে সাদা বলের চারটি আইসিসি ফাইনালে খেলে একটিতেও জয় পায়নি নিউজিল্যান্ড। এবার সেই দুই হিসাবই চুকিয়ে দেওয়ার সুযোগ তাদের সামনে।
ইতিহাস, আত্মবিশ্বাস আর অধিনায়কের সাহসী মানসিকতা—সব মিলিয়ে রোববারের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড প্রস্তুত এক বড় চমক দেওয়ার জন্য।


