২০২১ সালের সেই রাতের কথা এখনও ভুলতে পারেনি ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১১০ রানে অলআউট, তারপর লজ্জার হার। সেই দুঃস্মৃতি বুকে চেপে আজ আবার একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি সূর্যকুমার ও তার দল। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জিততে হলে তিনটি পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি একেবারেই চলবে না।
ভয় পেয়ে ব্যাটিং অর্ডার ওলটপালট করা
২০২১ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট আতঙ্কে পড়ে যায়। রোহিত শর্মাকে তিনে নামিয়ে ইশান কিষাণকে ওপেনিং করতে পাঠানো হয়। ফলাফল ছিল বিপর্যয়কর—মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় ভারত।
এবারও ওপেনার অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই উদ্বেগ থেকে যদি শেষ মুহূর্তে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনা হয়, তা প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দেবে—ভারত ভয় পেয়েছে। এই টুর্নামেন্টে দলটি ‘স্বাধীনতা ও সরলতা’র দর্শনে এগিয়েছে। ফাইনালেও সেই পথেই হাঁটা উচিত সূর্যকুমারের।

স্পিনের জালে আটকে যাওয়া
নিউজিল্যান্ডের স্পিন বিভাগ ভারতের বিপক্ষে বরাবরই মারাত্মক। ২০১৬ সালে নাগপুরে মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধি মিলে ভারতকে মাত্র ৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ইতিহাস এখনও শিউরে ওঠার মতো।
এবারের টুর্নামেন্টেও স্যান্টনার পরিষ্কার জানিয়েছেন, তিনি গ্যালারি স্তব্ধ করে দিতে চান। স্পিনারদের দেখেশুনে খেলতে গিয়ে আগেও ভারতের আস্কিং রেট বেড়ে গেছে, তারপর চাপে ব্যাটিং ধস নেমেছে। এবার সেই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। সূর্যকুমার নিজে এবং তিলক ভার্মাকে মিডল অর্ডারে প্রথম থেকেই সাহসী ব্যাটিং করতে হবে।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতির ঘাটতি
এই একই মাঠে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারত দাপট দেখিয়ে নেমেছিল। পিচের ধরন বুঝতে ভুল করেছিল, ফলে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল। সেই তেতো অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না।
আরও উদ্বেগের কারণ হলো সূর্যকুমারের নিজের স্বীকারোক্তি। ফাইনালের আগে তিনি বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের ম্যাচগুলো তিনি খুব একটা দেখেননি। বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের বিরুদ্ধে এমন প্রস্তুতির ঘাটতি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দাপট দেখানোর পর আত্মবিশ্বাস থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে পরিণত না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বুমরাহ-স্যামসনের ওপর ভরসা
তিনটি ফাঁদ এড়াতে পারলে এই ভারত দলের জেতার সামর্থ্য অবশ্যই আছে। জসপ্রীত বুমরাহর বোলিং এই মুহূর্তে বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্য দুঃস্বপ্ন। স্যাঞ্জু স্যামসনও ফর্মে আছেন। এই দুজনের পাশে দলের বাকিরা মাথা ঠান্ডা রাখলে ‘কিউই জুজু’ কাটানো অসম্ভব নয়।
পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করলে আজ রাতেই নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ আছে ভারতের।


