ফাইনালের আগের দিন মাঠে নামলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল সান্টনার। কিন্তু তিনি শুধু অনুশীলন করলেন না, নিজের মুঠোফোন বের করে তুলে রাখলেন নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের উইকেটের ছবি। এই একটি মুহূর্তই এখন ভাইরাল, আর ফিরিয়ে এনেছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের এক বিতর্কিত স্মৃতি।
কামিন্সের পথেই সান্টনার
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও ঠিক এই কাজটি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। একই স্টেডিয়ামে উইকেটের ছবি তুলে রেখেছিলেন তিনি। কারণটা ছিল সুনির্দিষ্ট। রাতারাতি উইকেট বদলে ফেলা হলে যেন আগের অবস্থার প্রমাণ থাকে।
সেই ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল, মাত্র ৭ ওভার হাতে রেখে ২৪০ রানের লক্ষ্য টপকে গিয়েছিল অজিরা। এবার সেই একই কাজ করলেন সান্টনার।

পেছনে আছে উইকেট বদলের পুরনো অভিযোগ
২০২৩ বিশ্বকাপে ভারত-নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে উইকেট বদলের অভিযোগ উঠেছিল আয়োজকদের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকটি ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, আইসিসিকে না জানিয়ে নিজেদের সুবিধামতো উইকেট পরিবর্তন করেছিল ভারত। সেই বিতর্কের রেশ এখনো মনে আছে দলগুলোর। সান্টনারের ছবি তোলা সেই সতর্কতারই প্রতিফলন।
কেমন হবে ফাইনালের উইকেট
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনালের উইকেট তৈরি হবে লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে, তবে লাল মাটির পরিমাণ থাকবে বেশি। দুই ইনিংসেই বল সহজে ব্যাটে আসবে, অর্থাৎ ব্যাটারদের জন্য থাকবে বাড়তি সুবিধা।
পেসাররাও পাবেন সহায়তা, কারণ উইকেটে থাকবে বাড়তি বাউন্স। তবে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছু নেই, টার্ন থাকবে নামেমাত্র। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উইকেটে ফাইনালে ২০০-র বেশি রান হওয়া স্বাভাবিক। এর আগে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে সেমিফাইনালে ভারত ও ইংল্যান্ড মিলে করেছিল ৪৯৯ রান।
২০২৩-এর ইতিহাস কি নিউজিল্যান্ড উল্টে দিতে পারবে
২০২৩ সালে কামিন্স উইকেটের ছবি তুলেছিলেন, ফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিলেন। এবার সান্টনার সেই একই কাজ করলেন। কাকতালীয় মিলটা কিউই শিবিরে হয়তো জোগাচ্ছে বাড়তি অনুপ্রেরণা।
৮ মার্চ আহমেদাবাদে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে। ভারত কি এবার ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি আরও একটি ফাইনালের আফসোস বুকে নিয়ে ঘরে ফিরবে।


