টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডারের মূল্য অপরিসীম। ব্যাটে রান করুন, বলে উইকেট নিন — দুই বিভাগে সমান দক্ষতাই একজন অলরাউন্ডারকে দলের অপরিহার্য সদস্য করে তোলে।
সম্প্রতি উইজডেন আইসিসির টি-টোয়েন্টি রেটিংয়ের ভিত্তিতে সর্বকালের সেরা দশ অলরাউন্ডারের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের নাম থাকলেও অনুপস্থিত ডোয়াইন ব্রাভো ও হার্দিক পান্ডিয়ার মতো বড় নামেরা।
রেটিং নির্ধারণের পদ্ধতি কী?
আইসিসি প্রতিটি ক্রিকেটারের ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্স আলাদাভাবে ১ থেকে ১০০০ পয়েন্টের স্কেলে মূল্যায়ন করে। অলরাউন্ডার রেটিং নির্ধারণ হয় ব্যাটিং ও বোলিং রেটিং গুণ করে ১০০০ দিয়ে ভাগ দিয়ে।
অর্থাৎ শুধু ব্যাট বা শুধু বলে ভালো করলে চলবে না — দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকাটা বাধ্যতামূলক।
তালিকার শীর্ষ দশ জন কারা?
উইজডেনের প্রতিবেদনে সর্বকালের সেরা দশ টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারের তালিকাটি এরকম:
- শেন ওয়াটসন (অস্ট্রেলিয়া) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৫৬৬
- মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৪৫২
- শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩৩৭
- সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৪২০
- গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩৭৫
- সনাৎ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩৬৬
- যুবরাজ সিং (ভারত) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩৬৩
- মোহাম্মদ নবী (আফগানিস্তান) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩৬১
- ডেভিড হাসি (অস্ট্রেলিয়া) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩৩৭
- সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে) — সর্বোচ্চ রেটিং: ৩২৮

একমাত্র ৫০০ পেরোনো ক্রিকেটার ওয়াটসন
শেন ওয়াটসন এই তালিকার শীর্ষে এবং তার অবস্থান একেবারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক ম্যাচের পর তার রেটিং উঠেছিল ৫৬৬ পয়েন্টে। ইতিহাসে একমাত্র তিনিই ৫০০-এর গণ্ডি পেরিয়েছেন।
ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ইনিংস আর বল হাতে ধারাবাহিক উইকেট — ওয়াটসনের এই দুই বিভাগের মিলিত দক্ষতাই তাকে এই শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে।
সাকিবের দীর্ঘ আধিপত্যের গল্প
বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান তালিকায় চতুর্থ হলেও তার ধারাবাহিকতার গল্পটা সবচেয়ে দীর্ঘ। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই কোনো না কোনো সময়ে তিনি আইসিসি টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তার রেটিং উঠেছিল ৪২০ পয়েন্টে।
একটি বা দুটি ম্যাচে ভালো খেলা আর বছরের পর বছর ধরে শীর্ষে থাকা — এই দুটি এক জিনিস নয়। সেই বিচারে সাকিবের অর্জন অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
হার্দিক-ব্রাভো কেন নেই?
হার্দিক পান্ডিয়া ও ডোয়াইন ব্রাভোর মতো নামগুলো এই তালিকায় না থাকা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে।
তবে আইসিসির রেটিং পদ্ধতি কেবল জনপ্রিয়তা বা দলে অবদান পরিমাপ করে না — এটি নির্দিষ্ট সময়ে দুই বিভাগে একসঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। সেই মানদণ্ডেই এই দুজন সর্বকালের সেরা দশে জায়গা পাননি।


