একপ্রান্ত থেকে একের পর এক উইকেট পড়ছে, অন্যপ্রান্তে ওভারপ্রতি ১৪-১৫ রানের পাহাড়সম চাপ। তবুও মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে জ্যাকব বেথেলকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না পরিস্থিতি কতটা কঠিন।
বুমরা, বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পান্ডিয়া— যাকেই পেয়েছেন তাকেই বেধড়ক পিটিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তার সেঞ্চুরি বৃথা গেলেও ভারতকে সত্যিকার অর্থেই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন বেথেল।
বুমরাকে ছক্কা দিয়ে শুরু, তারপর বরুণকে তিনটি
২৫৪ রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ৪.১ ওভারেই ২ উইকেটে ৩৮ রানে বিপর্যস্ত। সেই ওভারেই বুমরার বলে ব্রুক ফেরার পর চার নম্বরে নামেন বেথেল।
প্রথম বলে ডট, কিন্তু পরের বলেই বুমরাকে শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কায় জবাব দেন তিনি। এরপর ষষ্ঠ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর প্রথম তিন বলে পরপর তিনটি ছক্কা। সেই মুহূর্ত থেকেই ভারতীয় শিবিরে শুরু হয় অস্বস্তি।

৪৫ বলে সেঞ্চুরি, জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করলেন একাই
বেথেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এক সময় ম্যাচ জেতার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয় ইংল্যান্ডের। মাত্র ৪৫ বলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর হেলমেট খুলে ব্যাট শুধু উঁচিয়ে ধরলেন বেথেল, কোনো উদযাপন নেই। কারণ, তার লক্ষ্য ছিল ম্যাচ শেষ করা। ইংল্যান্ডের ২৪৬ রানের মধ্যে একাই ১০৫ রান করেছেন তিনি। ৪৮ বলের ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৭ ছক্কা।
‘মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড জিততেও পারে’
৭ রানে জিতেও ভারত মোটেও স্বস্তিতে ছিল না। ম্যাচসেরা সঞ্জু স্যামসন খোলামেলাভাবে স্বীকার করেন, পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট পড়ার পর মনে হয়েছিল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে আছে।
কিন্তু বেথেল যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড জিততেও পারে। স্যামসন জানান, বেথেল প্রত্যেক ওভারে দুটি করে বাউন্ডারি মারছিলেন এবং ওভারপ্রতি ১৩ রানের সমীকরণ সত্যিই মেলানো সম্ভব মনে হচ্ছিল।
ব্রুকের চোখে ‘আলাদা এক জগতে’ ছিলেন বেথেল
বেথেলের ইনিংস দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তার অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি বলেন, বেথেল সেই রাতে সত্যিই অবিশ্বাস্য এক জগতে ছিলেন। মনে হচ্ছিল তিনি প্রতিটি বলই ছক্কা মারতে পারবেন এবং সেটাই করে দেখিয়েছেন।
ক্যাচ মিস না হলে হয়তো ভিন্ন গল্প
ভারতের ২৫৩ রানের পেছনে ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং ভুলের ভূমিকা ছিল। মাত্র ১৫ রানে থাকতে স্যামসনের ক্যাচ ফেলে দেন হ্যারি ব্রুক নিজেই।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৩ বলে ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন স্যামসন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান। সেই ক্যাচ মিসের আক্ষেপ করেছেন ব্রুক নিজেই।


