শেষ ওভারে ৩০ দরকার, বেথেলের সেঞ্চুরিও বাঁচাতে পারল না ইংল্যান্ডকে

শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ রান, স্ট্রাইকে সেঞ্চুরি করা বেথেল। মনে হচ্ছিল অলৌকিক কিছু একটা হয়তো হবে। কিন্তু শিবাম দুবের প্রথম বলেই মাত্র ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে গেলেন জ্যাকব বেথেল। সেই মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল ইংল্যান্ডের স্বপ্ন।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে পরপর দুইবার ফাইনালে উঠল ভারত।

ইতিহাস গড়া ২৫৩, নকআউটে এর আগে কেউ পারেনি

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারত সাত উইকেটে ২৫৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট ম্যাচে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর।

এর আগে ২০১২ সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০৫ রানই ছিল সর্বোচ্চ। নকআউটে আড়াইশ ছাড়ানো প্রথম দল হলো ভারত। পাশাপাশি ১৯টি ছক্কা মেরে নকআউটে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও তাদের দখলে।

চলতি বিশ্বকাপে ভারতের মোট ছক্কা এখন ৮৮টি, যা এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন বিশ্বরেকর্ড।

শেষ ওভারে ৩০ দরকার, বেথেলের সেঞ্চুরিও বাঁচাতে পারল না ইংল্যান্ডকে

পাওয়ার প্লেতেই ৬৭, স্যামসন-ইশান জুটিতে ভিত্তি

শুরুতে অভিষেক শর্মার উইকেট হারালেও স্যামসন ও ইশান কিষান মিলে পাওয়ার প্লেতে ৬৭ রান তুলে দলকে শক্ত ভিত দেন।

মাত্র ৪৫ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন তারা, যা বিশ্বকাপের নকআউটে ভারতের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। আদিল রশিদের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ১৮ বলে ৩৯ রানে থামেন ইশান।

স্যামসনও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় গিয়ে জ্যাকসের বলে আউট হন।

রশিদের স্পিনে দুবের ছক্কার জবাব, তারপর হার্দিকের আগুন

রশিদের লেগ স্পিন সামলাতে চার নম্বরে পাঠানো হয় শিবাম দুবেকে। রশিদের বলেই তিনি মারেন তিনটি ছক্কা। ২৫ বলে ৪৩ রান করেন দুবে। হার্দিক পান্ডিয়া ১২ বলে ২৭ রান করেন।

তিলক ভার্মার মাত্র ৭ বলে ২১ রানের ঝড়ো ক্যামিওতে হার্দিকের ছক্কাতেই আড়াইশ স্পর্শ করে ভারত।

শুরুতেই সল্ট-ব্রুক বিদায়, ইংল্যান্ড চাপে

রান তাড়ায় নামা ইংল্যান্ড শুরুতেই হোঁচট খায়। হার্দিক দ্বিতীয় ওভারেই ফিল সল্টকে ফেরান। পঞ্চম ওভারে বুমরাহর বলে অক্ষর প্যাটেলের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।

পাওয়ার প্লেতে দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে গভীর চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

একা বেথেলের যুদ্ধ, রেকর্ড সেঞ্চুরিও যথেষ্ট নয়

বিপর্যয়ের মাঝে একা লড়াই চালিয়ে যান বেথেল। পাওয়ার প্লেতে বরুন চক্রবর্তীর বলে পরপর তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করেন, যা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।

জ্যাকসের সঙ্গে ৩৯ বলে ৭৭ এবং কারানের সঙ্গে ২৭ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন। মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে ৪৮ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৫ রানের এই অসাধারণ ইনিংসও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেনি।

শেষ মুহূর্তে বুমরাহর দেয়াল

শেষ পর্বে বুমরাহ হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। ষোলতম ওভারে ৮ এবং আঠারোতম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে নিয়ে আসেন।

চার ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন তিনি। হার্দিক ৩৮ রানে দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পারফরম্যান্স দেখান।

রোববার আহমেদাবাদে মহারণ

পরপর দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ভারত।

আহমেদাবাদে আগামী রোববার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে সেই মহারণ।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top