লেবাননে ইরানের দূতাবাসে কোনো ধরনের হামলা পরিচালিত হলে বিশ্বের প্রতিটি দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হুমকি দেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।
ইসরায়েলকে ‘অপরাধী রাষ্ট্র’ আখ্যা দিল তেহরান
বৈরুতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশনে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার হুমকি প্রসঙ্গে জেনারেল শেকারচি বলেন, ইসরায়েল নামের এই ‘অপরাধী রাষ্ট্র’ বারবার আন্তর্জাতিক সীমানা ও প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক রীতিনীতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আসছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে ইসরায়েলের এই আচরণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

সংযম দেখিয়েছে ইরান, তবে সীমা আছে
শেকারচি আরও জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সামরিক দিক থেকে ব্যাপক সক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বিবেচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান রেখে এতদিন সংযম অবলম্বন করে এসেছে। তবে এই সংযমের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছাড়া কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই
ইরানি এই সামরিক মুখপাত্র দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা বা দ্বন্দ্ব নেই। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরান স্পষ্ট করতে চেয়েছে যে তাদের পদক্ষেপ কেবল নির্দিষ্ট দুটি দেশকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।
লেবাননে হামলা হলে পাল্টা আঘাতের প্রতিশ্রুতি
ইসরায়েলের হুমকির সরাসরি জবাব দিতে গিয়ে শেকারচি বলেন, লেবাননে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে কোনো আঘাত এলে ইরান বিশ্বের সর্বত্র থাকা ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করতে বাধ্য হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ইহুদিবাদী গোষ্ঠী এমন কোনো আগ্রাসন চালায়, তাহলে আমরা অবশ্যই এর উপযুক্ত পাল্টা জবাব দেব।”
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে পরাস্ত করার অঙ্গীকার
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত প্রসঙ্গে শেকারচি ইসরায়েল এবং তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে পরাস্ত করার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্য পূরণে ইরান তার অবস্থান থেকে কোনোভাবেই সরে আসবে না এবং দেশটির সংকল্প অটল রয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, এএফপি।


