২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজন হতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর।
আয়োজক তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো ইতোমধ্যেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ 2026 ড্র।
কোন দল কোন গ্রুপে পড়েছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।
নিচে গ্রুপভিত্তিক প্রতিটি দলের তালিকা, সম্ভাবনা ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
Group A
- মেক্সিকো
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- দক্ষিণ কোরিয়া
- ইউরোপীয় প্লে-অফ D
আয়োজক মেক্সিকোর সামনে রয়েছে বৈচিত্র্যময় তিন প্রতিপক্ষ। দক্ষিণ কোরিয়া সর্বদাই বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকান শক্তির প্রতীক। ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে আসা দল গ্রুপে আরও প্রতিযোগিতা যোগ করবে।

Group B
- কানাডা
- ইউরোপীয় প্লে-অফ A
- কাতার
- সুইজারল্যান্ড
কানাডা নিজেদের ঘরের মাঠে খেলবে বলে মনোবল থাকবে তুঙ্গে। সুইজারল্যান্ড গ্রুপের সবচেয়ে গোছানো দল। কাতার গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামবে। ইউরোপীয় প্লে-অফ দল পরিস্থিতি আরও কঠিন করবে।
Group C
- ব্রাজিল
- মরক্কো
- হাইতি
- স্কটল্যান্ড
ফিফা বিশ্বকাপ 2026 ড্র–এর অন্যতম আলোচিত গ্রুপ এটাই। ব্রাজিল সব সময়ই ফেভারিট। মরক্কো গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠে ইতিহাস গড়েছিল। স্কটল্যান্ডরাও লড়াইয়ে থাকবে। হাইতি এখানে ডার্ক হর্স।
Group D
- যুক্তরাষ্ট্র
- প্যারাগুয়ে
- অস্ট্রেলিয়া
- ইউরোপীয় প্লে-অফ C
যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। প্যারাগুয়ে দক্ষিণ আমেরিকার কঠিন দল হিসেবে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক। প্লে-অফ দল নির্ধারিত হলে লড়াই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
Group E
- জার্মানি
- কুরাসাও
- আইভরি কোস্ট
- ইকুয়েডর
জার্মানি নতুন প্রজন্ম নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। আফ্রিকার আইভরি কোস্ট তাদের শারীরিক ফুটবল দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভোগাবে। ইকুয়েডর দক্ষিণ আমেরিকার উদীয়মান শক্তি। কুরাসাও এখানে সবচেয়ে অনিশ্চিত দল।
Group F
- নেদারল্যান্ডস
- জাপান
- ইউরোপীয় প্লে-অফ B
- তিউনিসিয়া
নেদারল্যান্ডসের টোটাল ফুটবল বনাম জাপানের গতি এ গ্রুপের মূল আকর্ষণ। তিউনিসিয়া রক্ষণভাগে শক্তিশালী। প্লে-অফ দল যোগ হলে গ্রুপ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
Group G
- বেলজিয়াম
- মিশর
- ইরান
- নিউজিল্যান্ড
বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের শেষ দিকের সুযোগ এটি। মিশর ও মো সালাহর উপস্থিতি গ্রুপকে প্রাণবন্ত করবে। ইরানের অভিজ্ঞতা আছে, আর নিউজিল্যান্ড সর্বাত্মক লড়াই করবে।
Group H
- স্পেন
- কেপ ভার্দে
- সৌদি আরব
- উরুগুয়ে
স্পেনের টিকি-টাকা বনাম উরুগুয়ের লড়াকু ফুটবল গ্রুপের সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচ। সৌদি আরব গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় চমক দিয়েছিল। কেপ ভার্দে এখানে নতুন অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছে।
Group I
- ফ্রান্স
- সেনেগাল
- ফিফা প্লে-অফ ২
- নরওয়ে
ফ্রান্স বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট। সেনেগাল আফ্রিকার সেরা দলগুলোর একটি। নরওয়ের হালান্ড থাকলে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। প্লে-অফ ২ দলও এখানে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
Group J
- আর্জেন্টিনা
- আলজেরিয়া
- অস্ট্রিয়া
- জর্ডান
মেসি আর থাকুন বা না থাকুন, আর্জেন্টিনা সব সময়ই নজরের কেন্দ্রে। আলজেরিয়া দ্রুতগতির ফুটবল খেলছে। অস্ট্রিয়া ইউরোপের ট্যাকটিক্যাল দল, আর জর্ডান সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় চমক দেখিয়েছে।
Group K
- পর্তুগাল
- ফিফা প্লে-অফ ১
- উজবেকিস্তান
- কলম্বিয়া
পর্তুগাল নতুন প্রজন্ম নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড নামাবে। কলম্বিয়ার আক্রমণাত্মক ধারারা তাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। উজবেকিস্তান এশিয়ার উদীয়মান শক্তি।
Group L
- ইংল্যান্ড
- ক্রোয়েশিয়া
- ঘানা
- পানামা
ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে সবসময়ই টানটান ম্যাচ হয়। ঘানা আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। পানামাও কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়।
কোন গ্রুপ সবচেয়ে কঠিন?
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রুপ C (ব্রাজিল–মরক্কো–স্কটল্যান্ড–হাইতি) এবং গ্রুপ H (স্পেন–উরুগুয়ে–সৌদি আরব–কেপ ভার্দে) সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।
এছাড়া গ্রুপ I তেও হালান্ডের নরওয়ে থাকায় বাড়ছে আগ্রহ।
শেষ কথা
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এই টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে বৈচিত্র্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং চমকে ভরপুর। ফিফা বিশ্বকাপ 2026 ড্র প্রকাশের পর এখন ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার। ১১ জুন পর্দা উঠবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের।


