কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাব মানবিক সংকটের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক রূপ নিতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া বর্তমানে ভাইরাসটির প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির কঙ্গো প্রধান অ্যালিস রিবস পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, প্রাণঘাতী ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় ৫,৫৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২,৬৮০ জন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করা চিকিৎসকদের ধারণা, সরকারি হিসাবে ওঠে আসা সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারির চেয়েও দ্রুত সংকটজনক হয়ে উঠছে। ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা আফ্রিকায় ইবোলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার ঘাটতিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় বড় বিয়ের অনুষ্ঠান, কনসার্ট, গণজমায়েত এবং গির্জায় বিপুল মানুষের সমাগম হচ্ছে। অনেকেই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় অর্থ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে ডিআর কঙ্গো ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া সহায়তা কমে যাওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, কোয়ারেন্টাইনে রাখা এবং নজরদারি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দেয়।

গত বছরের ১৫ মে ডিআর কঙ্গো ও প্রতিবেশী উগান্ডায় একই সময়ে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। উগান্ডা গত ২৮ জুলাই নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করলেও কঙ্গোর ছয়টি প্রদেশে ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তার নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top